ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হেরে চরম সংকটে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হেরে চরম সংকটে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজের শেষ দিনে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন অভিজ্ঞ ডেভিড ওয়ার্নার। শব্দটির দৈর্ঘ্য ছোট হলেও এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সংস্কৃতির ক্ষেত্রে। দেড় শ বছরেরও বেশি সময় আগে শিল্প ও সাহিত্যের পরিমণ্ডলে যে শব্দটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা গত শতাব্দীতে রাজনীতির অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব পরিচিতি, মূল্যবোধ কিংবা সংস্কৃতির পরিপন্থী যা কিছু ঘটে, তাকেই এই বিশেষ শব্দটির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। নিজের সাবেক ড্রেসিংরুমের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়েই এই কড়া সমালোচনা করেন ওয়ার্নার। আর এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিউল্যান্ডস স্টেডিয়াম, যেখানে ২০১৮ সালে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির কারণে তিনি নিজেই এক বছরের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।

দীর্ঘ আট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ খেলতে পা রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া দল। ডারবানের প্রথম টেস্ট ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে প্যাট কামিন্সের দল নিজেদের টেস্ট র‍্যাঙ্কিং ও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষস্থান আরও দৃঢ় করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গেবেখায় ইনিংস ব্যবধানে এবং কেপটাউনে ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে তারা সেই শীর্ষস্থান হারায়। অস্ট্রেলিয়ার বর্ণাঢ্য টেস্ট ইতিহাসে তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচ জিতেও সিরিজ হারানোর ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। এর আগে এমন নজির ছিল ঊন শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার এবং সর্বশেষ ২০০১ সালে ভারতের মাটিতে। টানা দুই টেস্টে পরাজয়ের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাও তাদের জন্য অত্যন্ত বিরল। ২০২৩ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির প্রথম দুই ম্যাচের পর এই প্রথম তারা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১ হাজার ৩০০ দিনেরও বেশি সময় পর কোনো টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া করল অস্ট্রেলিয়া।

ডারবানের সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২১৪ রানের ব্যবধানে হারটি ছিল টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে টেম্বা বাভুমার ক্যারিয়ারের প্রথম পরাজয়। এর আগে তাঁর অধিনায়কত্বে ১২টি টেস্ট ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ১১টিতেই জয়লাভ করেছিল এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছিল। ওই হারের পর ট্রাভিস হেড তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বাভুমাকে নিয়ে ট্রল করা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি প্রোটিয়া শিবিরের ভালো লাগার কথা ছিল না। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাভুমা জানান যে ড্রেসিংরুমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি তা গায়ে মাখছেন না। তবে ক্রিকেট মাঠে এর জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা দল। গেবেখা টেস্টে বাভুমার ব্যাট থেকে আসা ১৭৯ রানের অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ের পর প্রোটিয়া অধিনায়ক মন্তব্য করেন যে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা একটি সিরিজ ছিল।

কেপটাউন টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ডেভিড ওয়ার্নারের মন্তব্যে রাগ বা ক্ষোভের চেয়েও হতাশার সুর ছিল অনেক বেশি প্রখর। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ানক ও তাদের দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান। কেন তাঁর এমনটা মনে হয়েছে তার ব্যাখ্যায় তিনি যোগ করেন যে মাঠে দলের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো লড়াই দেখা যায়নি এবং গোটা বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। ২৮৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শেষ দিনের লাঞ্চ বিরতির আগেই মাত্র ৬০ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া দল। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে জস ইংলিস রানআউট হওয়ার পর ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে ওয়ার্নার কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন যে বিকেলে কি দলের কোনো ওয়াইন ট্যুর বা ভ্রমণের কর্মসূচি রয়েছে কি না।

সে সময় ধারাভাষ্য বক্সে উপস্থিত অন্য প্রবীণ অনেকেও চুপ করে বসে থাকেননি। মার্ক ওয়াহর মতে, অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের সেই দুই ঘণ্টার ব্যাটিং প্রদর্শনী ছিল অত্যন্ত ভয়ানক এবং অপরিণত মানসিকতার পরিচয়। সাইমন কাটিচের দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য ছিল যে টেস্ট ক্রিকেটের মতো কঠিন মঞ্চে লড়াই এড়িয়ে পালিয়ে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। খেলা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্নারের এই কড়া সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন যে তাঁর কাছে কোনো উত্তর নেই এবং তিনি নিশ্চিত নন ঠিক কী বলা উচিত। তবে দলের চরম ব্যর্থতা স্বীকার করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি তিনি এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তারা মাঠে যথেষ্ট ভালো পারফর্ম করতে পারেননি।

ওয়ার্নারের করা ‘লড়াই না করার’ অভিযোগটি শতভাগ নিখুঁত না হলেও একেবারে মিথ্যাও ছিল না। প্রথম সেশনেই সাতটি উইকেট পতনের পর অস্ট্রেলিয়া দল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা আর কোনো উইকেট উপহার দেবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যামেরন গ্রিন পেস বোলিং সামলাবেন এবং অধিনায়ক কামিন্স খেলবেন স্পিন আক্রমণ। ইনিংসের ১৬তম ওভার থেকে ৩৯তম ওভার পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ ওভার ধরে গ্রিনকে স্পিনার সাইমন হারমারের মুখোমুখি হওয়া থেকে নিরাপদে দূরে রাখা হয়। প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা কেবল হারমারের বোলিং প্রান্ত বদলে দেন এবং নতুন প্রান্ত থেকে সেই স্পেলের প্রথম বলেই গ্রিন বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। কিছুক্ষণ পর কোনো রান না করেই আউট হন অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্কও। ওয়ার্নারের দৃষ্টিতে এই কৌশলটি ছিল সম্পূর্ণ এক পরাজয়মূলক মানসিকতা, যেখানে জেতার কোনো জেদ ছিল না বরং কেবল ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গেরার্ড হোয়াটলির মতে, এটি তাঁর দীর্ঘ ধারাভাষ্য জীবনে দেখা সবচেয়ে লজ্জাজনক উইকেটের পতন।

অথচ এর মাঝেই প্যাট কামিন্স ও স্পিনার নাথান লায়ন মিলে দারুণ এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে বিকেল পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন নাথান লায়ন। এই রানসংখ্যার পেছনেও লুকিয়ে আছে একটি ইতিহাস। ২০১১ সালে নিউল্যান্ডস টেস্টে মাত্র ৪৭ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জার দিনেও অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন এই লায়নই। মার্ক ওয়াহর মতে, একটি দল হিসেবে গত দুই বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যাটিং করতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া দল। দলের ব্যাটারদের ব্যক্তিগত মেধা ও প্রতিভার জোরেই তারা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছিল। ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ এবং উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটারদের দৃঢ়তা মূলত দলের সামগ্রিক ব্যাটিং দুর্বলতাগুলোকে আড়াল করে রাখছিল। এর সঙ্গে তাদের কার্যকর পেস বোলিং আক্রমণ এবং নিজেদের ঘরের মাঠের অনুকূল কন্ডিশন তো সহায়ক হিসেবে ছিলই।

ফক্স স্পোর্টসের পরিসংখ্যান বলছে যে ২০২৪ সালের শেষ সময় থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় আটবার দলীয় স্কোর এক শ রান পূর্ণ করার আগেই ৬ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যার মধ্যে কেবল চলমান দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই এমন লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে দুইবার। বর্তমান এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের প্রধান প্রতীক যেন মারনাস লাবুশেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। বর্তমানে তাঁর টেস্ট ব্যাটিং গড় নেমে এসেছে ২৫-এর নিচে। ক্যারিয়ারের প্রথম ৩০টি টেস্টে ১০টি সেঞ্চুরি হাঁকানো লাবুশেন পরবর্তী ৩৯টি টেস্ট ম্যাচে করতে পেরেছেন মাত্র একটি মাত্র সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি ছাড়া খেলা ইনিংসের সংখ্যার দিক থেকে টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে সবাইকে পেছনে ফেলে সবার ওপরে উঠে গেছেন তিনি।

চলমান দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে মারনাস লাবুশেনের মোট সংগ্রহ মাত্র ১৩১ রান, যেখানে তাঁর গড় রান ২১.৮৩। এই সফরে মাত্র দুটি টেস্ট খেলা স্টিভ স্মিথের সিরিজ গড় মোটে ২০.৭৫। সামগ্রিক বিচারে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের শীর্ষ সাতজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে পাঁচজনেরই ব্যাটিং গড় ২২-এর নিচে নেমে গেছে। দলের এই সামগ্রিক ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নির্বাচকদের কাঁধেও চাপিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার কাটিচ। তাঁর সুনির্দিষ্ট মতে, মারনাস লাবুশেনকে বারবার দলে সুযোগ দিতে গিয়ে তাঁর সুদীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারটিকেই এখন এক ধরনের চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তবে অস্ট্রেলিয়া দলের সাম্প্রতিক অতীতের সব স্মৃতি এতটা বিবর্ণ বা মলিন ছিল না। ২০২৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজের সমাপ্তি থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত খেলা ২১টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছিল তারা। এর পাশাপাশি ২০২৫-২৬ মৌসুমের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজেও তারা ৪-১ ব্যবধানে বিশাল জয় লাভ করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার সুবাদে গত মে মাসের প্রকাশিত আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছিল অস্ট্রেলিয়া, সে সময় তাদের নামের পাশে রেটিং পয়েন্ট ছিল ১৩১। কিন্তু সাফল্যের সেই সোনালী চিত্রে এখন বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। গত আগস্টে ডারউইন শহরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয় অস্ট্রেলিয়া দল। সেই ম্যাচের প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের মোট রান ছিল যথাক্রমে মাত্র ১৯৮ ও ২৮৪। পরবর্তী সময়ে ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত পরের টেস্ট ম্যাচ জিতে কোনোমতে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে তারা আর নিজেদের মান রক্ষা করতে পারেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অস্ট্রেলিয়া দল তাদের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল সুদূর ২০১৪ সালে। ঐতিহাসিক সেই সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও অর্জন করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আর সেই ওয়ার্নারই আজ ধারাভাষ্যকক্ষের মাইক্রোফোনের সামনে বসে দলের এমন করুণ দশার সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে, উসমান খাজা ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সিডনিতে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথের বয়স এখন ৩৮ বছর এবং মারনাস লাবুশেনের দলের স্থায়ী একাদশের জায়গাও আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘ ১৯ মাস পর ফিরে নিক ম্যাডিনসন মাত্র ১৪ গড়ে করতে পেরেছেন মোটে ৫৬ রান। তাছাড়া বেউ ওয়েবস্টারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তরুণ কনোলি। সব মিলিয়ে বর্তমান অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের পুরো ব্যাটিং কাঠামোতেই এখন এক তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে।

দলের অভ্যন্তরে কাঠামোগত পরিবর্তনের যে জরুরি প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, তা খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করে নিয়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও। তাঁর নিজস্ব ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনটি হতে পারে খেলার সামগ্রিক ধরনে কিংবা দলের খেলোয়াড় বদলের প্রক্রিয়ায়। আসন্ন আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে পার্থের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের দীর্ঘ টেস্ট সিরিজ শুরু করতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া দল। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। এরপর আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ভারতের মাটিতে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের অত্যন্ত কঠিন টেস্ট সিরিজ। ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় যে বর্তমান দলের কামিন্স, স্মিথ, স্টার্ক, হ্যাজলউড কিংবা লায়ন—এই তারকাদের কেউই ভারতের মাটিতে কখনো কোনো টেস্ট সিরিজ জেতার স্বাদ পাননি।

এরপর আগামী মার্চ মাসে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক ১৫০তম বার্ষিকী টেস্ট ম্যাচ। সব মিলিয়ে মাত্র ১৪ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাদের খেলতে হবে মোট ১০টি টেস্ট ম্যাচ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের জুন মাসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার উজ্জ্বল সম্ভাবনাও তাদের সামনে রয়েছে। আর ঠিক সেই একই গ্রীষ্মের মৌসুমে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে আরও একটি পাঁচ ম্যাচের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজ।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যমুনার বালুচরে জীবিকার টানে প্রতিদিনের কঠিন পথচলা

যমুনার বালুচরে জীবিকার টানে প্রতিদিনের কঠিন পথচলা