ঢাকা | বঙ্গাব্দ

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের আশা জাগাচ্ছেন জেমস টালারিকো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের আশা জাগাচ্ছেন জেমস টালারিকো ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট দলের নেতাকর্মীরা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই চেনা দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা।

এই আশার পালে হাওয়া লাগিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী তরুণ সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো। তাঁর এই রাজনৈতিক উত্থানের হাত ধরেই ১৯৮৮ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এবারই প্রথম টেক্সাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাসের একটি নির্দিষ্ট সিনেট আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন।

রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী কৌশলবিদ ব্রেন্ডান স্টেইনহাউজার এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান যে, ডেমোক্র্যাটরা যদি শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে বিজয়ী হতে সক্ষম হন, তবে টেক্সাসসহ গোটা মার্কিন মুল্লুকে রিপাবলিকান পার্টিকে তাদের রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং দলটি মানসিকভাবে বিরাট ধাক্কা খাবে।

নির্বাচনী লড়াইয়ের এত বিপুল রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে টেক্সাসের এবারের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল লড়াইয়ের রূপ লাভ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনী কার্যক্রমে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলারের অঙ্কও ছাড়িয়ে গেছে।

আমেরিকার রাজনীতিতে জেমস টালারিকোর এই আকস্মিক উত্থানকে কিছুটা বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, গত ২০২৫ সালেও তিনি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে একদমই অপরিচিত একজন ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অংশ হিসেবে সম্প্রতি টেক্সাসের লাবক শহরে এক সফরে গিয়েছিলেন জেমস টালারিকো। সেখানে অবস্থিত ফিয়েস্তা সেন্টারে তাঁকে একনজর দেখার জন্য সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরি হতে দেখা যায়।

মৃদুস্বরে কথা বলতে অভ্যস্ত এবং খ্রিষ্ট ধর্মযাজক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করা টালারিকোর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে। তাঁকে দেখার জন্য সমবেত মানুষের সেই সারি বিশাল ভবন ঘুরে পার্কিং লট পেরিয়ে সোজা ব্যস্ত সড়ক পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল।

পশ্চিমাঞ্চলের ধুলোমাখা সমতল ভূমিতে অবস্থিত প্রায় আড়াই লাখ মানুষের ছোট্ট এই শহরে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন একজন হেভিওয়েট ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর প্রচারণামূলক সফর ছিল একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ঘটনা। উল্লেখ্য যে, মোটে দুই বছর আগেও এই শহরের ভোটারদের বিরাট একটি অংশ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন।

লাবক শহরের পার্শ্ববর্তী হকলি কাউন্টির ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যারন গনজালেজ এই জনস্রোত সম্পর্কে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন যে, এই দৃশ্য দেখতে সত্যিই দারুণ লাগছে এবং এবারের বাস্তব পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা।

প্রায় তিন হাজার উৎসুক সমর্থকের উপস্থিতিতে জেমস টালারিকো যখন প্রধান মঞ্চে এসে ওঠেন, তখন ভবনের বাইরে আরও প্রায় এক হাজার মানুষ স্পিকারের মাধ্যমে তাঁর পুরো বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। চলতি বছর জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা সাধারণত যে ধরনের প্রচার চালিয়ে আসছেন, টালারিকোর বক্তব্যের সুরও ছিল অনেকটা একই রকম, তবে তাতে টেক্সাসের নিজস্ব আঞ্চলিক কিছু বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।

নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে টালারিকো রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর ও তীব্র সমালোচনা করেন। সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সংকটের প্রতি বর্তমান নেতৃত্বের ন্যূনতম কোনো সংবেদনশীলতা নেই বলে তিনি জোরালো অভিযোগ তোলেন।

পাশাপাশি আমেরিকান রাজনীতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতিকর ও কালো প্রভাবের তীব্র নিন্দা জানান জেমস টালারিকো। সেই সঙ্গে তিনি আসন্ন সিনেটে একটি দুর্নীতিবিরোধী ‘সর্বাত্মক কর্মসূচি’ সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে টালারিকো স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, টেক্সাসের সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তাঁর মতে, চরমপন্থা ও দুর্নীতির অন্ধকার দিন শেষ হয়ে গেছে এবং বিভেদ সৃষ্টির রাজনীতিরও আর কোনো স্থান নেই, কারণ সাধারণ মানুষ এখন সম্পূর্ণ নতুন কিছু দেখতে চায়।

নির্বাচনী প্রচারণার একেবারে শেষ দুই সপ্তাহের জন্য জেমস টালারিকো যে আকর্ষণীয় স্লোগানটি বেছে নিয়েছেন সেটি হলো—‘স্বচ্ছ দৃষ্টি, পূর্ণ হৃদয়, হারার কোনো সুযোগ নেই’।

লাবকের সেই জনসমাবেশে টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অ্যান্ড্রু রবিনসনও উপস্থিত ছিলেন এবং টালারিকোর রাজনৈতিক বক্তব্য তাঁর বেশ ভালো লেগেছে। তবে ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের আশাবাদের মাঝেও কিছুটা সংশয় ও দ্বিধা কাজ করছিল, কারণ নিজের জীবনের পুরোটা সময় তিনি দেখেছেন যে টেক্সাসে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার বহু চেষ্টা করেও ডেমোক্র্যাটরা বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।

অ্যান্ড্রু রবিনসন জানান যে, টালারিকো যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন তবে তা তাঁর কাছে একটি বিশাল ঘটনা হবে। টেক্সাসে নিজের ভবিষ্যৎ জীবন কাটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা খুব একটা তাঁর না থাকলেও, যদি সরকারের পরিবর্তন ঘটে তবে সেটাই এই রাজ্যে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের প্রতিটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেক্সাসের সাধারণ ভোটারদের রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছিলেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে, মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে, মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা