নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নারী উইংয়ের নিরাপত্তা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সম্প্রতি নারী ক্রিকেটারদের যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা বা হয়রানির অভিযোগ জানাতে একটি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। পাঁচজন সদস্যবিশিষ্ট এই বিশেষ কমিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অভিজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামকে।
উল্লেখ্য যে, অতীতে বিসিবির একটি বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পূর্বে গঠিত তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন পর্ষদেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রাশনা ইমাম। সে সময় তিনি উইমেন্স উইংয়ের প্রধান হিসেবেও নিজের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।
নবগঠিত এই পাঁচ সদস্যের বোর্ডে প্রধান ছাড়াও আরও কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। এই প্যানেলের বাকি সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার আনীতা গাজী রহমান এবং জারিন মাহমুদ হোসেন।
এই কমিটিতে আরও একজন সাবেক নারী ক্রিকেটারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে এখন পর্যন্ত সেই সাবেক ক্রিকেটারের নাম চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এই স্বাধীন প্যানেলের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এর কার্যক্রমে বিসিবির ভেতরের কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর ফলে যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কোনো প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি দূর হয়েছে।
এ বিষয়ে নারী উইংয়ের বর্তমান প্রধান রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিজের মতামত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় ধরেই এমন একটি স্বতন্ত্র প্যানেল গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছিল এবং অবশেষে বোর্ড সেই অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, এখন দেশের যেকোনো নারী ক্রিকেটার চাইলে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই প্যানেলের সামনে এসে নিজেদের অভিযোগ বা বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন।
অবশ্য বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এ ধরনের হয়রানির অভিযোগ বা বিতর্ক এটিই প্রথম নয়। এর আগে জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক জাহানারা আলম টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দিষ্ট এক সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন।
পূর্বের সেই অনভিপ্রেত ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিল ক্রিকেট বোর্ড এবং তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছিল।
পাশাপাশি, হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের ঐতিহাসিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার পরিধি আরও দৃঢ় করার ঘোষণা দিয়েছিল বোর্ড কর্তারা।
সে সময় বিসিবির পরিচালক এবং উইমেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান রুবাবা দৌলাকে ওই তদন্ত প্যানেলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
স্বাধীনভাবে অভিযোগ জানানোর স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটে নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করতে বিশেষ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ চালুর দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছিল সেই কমিটিকে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এই পাঁচ সদস্যের প্যানেল গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো, নারী খেলোয়াড়েরা যেন কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ভীতি ছাড়াই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করতে পারেন।
নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের পেছনে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টিই প্রধানত তুলে ধরেছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর