নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন কৌশলগত পাঠ নিয়ে নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়েছেন নেইম্রা। কর্মশালা থেকে তিনি হিসাবরক্ষণ, বিপণন কৌশল, আর্থিক পরিচালনা এবং ঝুঁকি এড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রপ্ত করেছিলেন।
তার ভাষ্যমতে, ওই কর্মশালা তার ভেতরকার প্রত্যয় অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন যে ব্যবসার সম্পূর্ণ অর্থ কেবল ব্যক্তিগত লাভ নয়, বরং আগামী দিনের জন্য সঞ্চয় ও মূলধন বিনিয়োগের তাৎপর্যও অপরিসীম।
সহায়তার অর্থ এবং নিজের জমানো পুঁজি মিলিয়ে তিনি তার খাবারের প্রতিষ্ঠানের পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত করেন। পূর্বে যেখানে মাত্র দশ থেকে বিশজন মানুষের বসার সুযোগ ছিল, সেখানে এখন একত্রে শতাধিক ক্রেতা আপ্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।
দুপুরের মূল আহার ছাড়াও বিকেলে মুখরোচক নানা খাবার পাওয়া যায় সেখানে। পাশাপাশি ছোটদের বিনোদনের জন্য আলাদা শিশুর কর্ণার এবং একটি মাছের অ্যাকুয়ারিয়ামও স্থাপন করা হয়েছে।
খাবারের গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং সুন্দর পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও দারুণ সমাদৃত হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত ক্রেতাদের একজন সজীব মারমা জানান, এখানের খাবারের মান সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি মাঝেমধ্যে স্বজনদের নিয়ে খেতে আসেন। এর সুনির্দিষ্ট খরচের পাশাপাশি চারপাশের মনোরম পরিবেশটিও বেশ আকর্ষণীয়।
এই নারী উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রার হিসাব কেবল অর্থনৈতিক অর্থমূল্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে এলাকার আরও বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে পনেরোজন নারী কর্মী নিয়োজিত আছেন। তাদের মধ্যে বারোজন নিয়মিত কাজ করেন এবং বাকি তিনজন অপ্রাণ সময়ে দায়িত্ব পালন করেন।
দূরদূরান্তের পাহাড়ি জনপদ থেকে আসা বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে উপার্জনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নানামুখী সহযোগিতা করে থাকেন নেইম্রা।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় তাকে অনেকের উপহাস বা কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অথচ আজ সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি একটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
খাবারের এই প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী পুরো অঞ্চলটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে একটি পরিচিত আবাসিক এলাকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।
উদ্বোধন করা ছোট্ট একটি খাবারের দোকান থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে নানা বেদনা, বৈরী পরিস্থিতির সঙ্গে সংগ্রাম এবং বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস।
পাহাড়ঘেরা গণ্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও নিজের এই সফল ব্র্যান্ডের শাখা বিস্তৃত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে তার।
নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে নেইম্রার বিশেষ বার্তা হলো, প্রত্যেকে যেন বড় স্বপ্ন দেখতে পারেন, পর্যাপ্ত সাহস রাখেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই যেন পিছু হটেন না।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর