নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলে ধনকুবের ইলন মাস্কের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের বিজয়ের ফলে তাঁর মালিকানাধীন বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান নতুন করে কঠোর রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত এবং নজরদারির কবলে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এবারের মার্কিন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত নিজের প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিয়মিত পোস্ট করে সাধারণ অনুসারীদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।
নির্বাচনী প্রচারের এই পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে মাস্কের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সরকারি তদন্ত শুরু করতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত মাসেই এমন সব খবরের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকিও প্রদান করেছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের এই নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে পুঁজিবাজারেও স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বলে আর্থিক বিশ্লেষকেরা লক্ষ্য করেছেন। মার্কিন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের আর্থিক মূল্য ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
একই সঙ্গে মাস্কের অন্যতম শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দামেও বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে শেয়ারমূল্য ৫ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের বর্তমান ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অত্যন্ত বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও তার সরকারি অনুমোদন পাওয়া এক বিরাট ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে এসব উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তি প্রকল্পের কাজের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপরিসরে বিরোধিতা দিন দিন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মূল কারণ হিসেবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের বোঝা এবং পরিবেশগত নানা গুরুতর উদ্বেগকে দায়ী করা হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাট দলের নীতিনির্ধারকেরা এ ধরনের ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা এবং নতুন সব নির্মাণ প্রকল্পে সাময়িক স্থগিতাদেশ আরোপ করার জোরালো দাবি তুলতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর