নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাঙামাটির সাজেকে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবিনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই সংঘাতে কে বা কারা জড়িত, তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংশ্লিষ্টতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন দলটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই বন্দুকযুদ্ধের সঙ্গে তাদের দল কোনোভাবেই যুক্ত নয় এবং এটি অসম্ভব একটি বিষয়।
অংগ্য মারমা আরও দাবি করেছেন, তাদের কোনো ধরনের সশস্ত্র শাখা বা সংগঠন নেই। ইউপিডিএফ একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাজেকে বর্তমানে যে আন্দোলন চলমান রয়েছে, তা নস্যাৎ বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অসদুদ্দেশ্যেই এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমাও একই সুরে তাদের দলের জড়িত থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনিও দাবি করেন যে, তাদের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই এবং জেএসএস এই বন্দুকযুদ্ধের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।
সজীব চাকমা আরও অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফের নানাবিধ সশস্ত্র কর্মকাণ্ড এবং তৎপরতার বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষই মূলত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
অন্য একটি প্রসঙ্গে জানা যায়, বিভিন্ন দাবিতে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে পাঁচ দফা দাবিতে লাগাতার ১০ দিনের সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে। তবে নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আজ সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি শিথিল রাখা হয়েছিল।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামক একটি শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই শ্রমিক সংগঠনের ডাকা সেই অবরোধের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সাজেক এলাকায়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর