নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বরিশালের হিজলা উপজেলার দুর্গম মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় আকস্মিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় আক্তার হোসেন (৪০) নামের এক জেলের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের ওরাকুল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মেঘনা নদীতে মৎস্য আহরণের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে জেলেদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং এতেই ওই জেলে মারা যান। জেলেদের জোরালো দাবি অনুযায়ী নৌ পুলিশের ছোড়া গুলিতেই আক্তারের মৃত্যু হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডের দায় বা ঘটনার সত্যতা এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নৌকায় উপস্থিত জেলে মো. আব্দুল বেপারী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মেঘনা নদীর ওরাকুল পয়েন্টে ১৩ জন জেলের একটি দল নিয়ে তাঁরা নদীতে জাল ফেলতে নেমেছিলেন। হঠাৎ করে সেখানে নৌ পুলিশের একটি জলযান দ্রুতগতিতে এসে তাদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে।
ওই আকস্মিক আক্রমণ থেকে বাঁচতে নৌকার সবাই দ্রুত শুয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও দুর্ভাগ্যবশত আক্তারের গায়ে গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার কিছু দূরে অবস্থান করে একই বাহিনীর ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল খলিল খাঁ নামের অপর এক জেলের নৌকায়ও আকস্মিক অভিযান চালায়।
চাঁদপুর পুলিশ সেই অভিযান থেকে বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল বেপারী। এই পুরো পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করেই তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে চাঁদপুর নৌ পুলিশের সদস্যরা সেদিন তাদের বোটে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছিল এবং তাদের গুলিতেই আক্তার নিহত হয়েছেন।
নিহত জেলে আক্তার হোসেনের ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কে আব্দুল বেপারী উল্লেখ করেন যে, তিনি হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের সুলতান হাওলাদারের সন্তান ছিলেন। জীবিকার তাগিদে নদীতে নামা এই জেলের পরিবারে তাঁর স্ত্রী ছাড়াও দুই পুত্র এবং চার কন্যা সন্তান রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর