ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অভিনয়শিল্পী সংঘ: তিশা ও অথৈয়ের সদস্যপদ স্থগিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
অভিনয়শিল্পী সংঘ: তিশা ও অথৈয়ের সদস্যপদ স্থগিত ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শুটিং সেটে হাতাহাতির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দুই তারকার পক্ষ থেকে আসা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের দীর্ঘ তদন্ত ও প্রক্রিয়া শেষে বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত হিসেবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবং সামিয়া অথৈ—উভয়েরই প্রাথমিক সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি চিঠির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। এই দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্দেশ্যে এর আগেও সংঘের পক্ষ থেকে একাধিকবার আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেই সমস্ত সালিসী ও মীমাংসামূলক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কোনো সফলতার মুখ দেখেনি বলে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত এই চিঠি দুটির দাপ্তরিক তারিখ ছিল গত ৪ অক্টোবর। তানজিন নাহার তিশা এবং সামিয়া আক্তার অথৈ-এর নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানো ওই চিঠিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৭ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে ‘সদস্যপদ স্থগিতকরণ’ সংক্রান্ত একটি জরুরি কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, অভিযুক্ত দুই অভিনেত্রীর কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই নোটিশের কোনো লিখিত বা দাপ্তরিক জবাব সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে জমা দেননি। পরবর্তী সময়ে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সালিস এবং বিবাদ মীমাংসাকরণ পর্ষদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গৃহিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংঘের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিলের এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আলোচিত এই চিঠি দুটিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বলতে গিয়ে সামিয়া অথৈ অভিযোগ করেছিলেন যে, শুটিংয়ের সময় নাটকের একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যে তাঁর তানজিন তিশাকে খুব আলতো করে একটি চড় মারার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই তিনি কেবল সেই কাজটি করেছিলেন; কিন্তু এর ঠিক পরেই তিশা তাঁকে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে একাধিকবার সজোরে চড় মারেন। এই অতর্কিত ও হিংসাত্মক আচরণের ফলে তাঁর চোখ এবং গাল মারাত্মকভাবে ফুলে যায় এবং তাঁর পক্ষে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করেন সামিয়া। শুধু শুটিং সেটের ওই বিশেষ দিনের ঘটনাই নয়, এর আগেও তানজিন তিশার সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধ ও মতপার্থক্য ছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন সামিয়া। এমনকি সহকর্মী অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে নাটক ও শুটিংয়ে কাজ করা নিয়েও তিশা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। সামিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিনেতা ফারহানকে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো কাজ না করার জন্য তিশা তাঁকে আগে থেকেই বিশেষভাবে সতর্ক করেছিলেন। তবে সামিয়ার তোলা এই ব্যক্তিগত অভিযোগের কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সত্যতা তখন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সহকর্মী সামিয়া অথৈর আনা এহেন সমস্ত গুরুতর অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন তানজিন তিশা। তাঁর নিজের দাবি ছিল, শুটিং সেটে সেদিন যা যা ঘটেছিল, তার পুরোটাই ছিল মূলত নাটকের চিত্রনাট্য এবং চরিত্রের অতি আবশ্যকীয় চাহিদার প্রতিফলন। ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ বা ক্ষোভ থেকে তিনি সহকর্মী কাউকে আঘাত করার মতো মানসিকতায় ছিলেন না বলে দাবি করেন। ঘটনার সময় তিশা জানিয়েছিলেন যে, আলোচ্য নাটকটিতে তিনি মূলত একজন বিশেষ চাহি সম্পন্ন কিশোরীর অত্যন্ত জটিল চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। সেই চরিত্রটির স্বাভাবিক আচরণ ও মনস্তত্ত্বে অন্যকে আঘাত করা কিংবা কামড় দেওয়ার মতো কিছু দৃশ্য বা দৃশ্যকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই অভিনয়ের নিখুঁত প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যা সুনির্দিষ্টভাবে লেখা ছিল, তিনি ঠিক সেটাই পর্দায় রূপায়ণ করার চেষ্টা করেছেন। তিশার জোরালো বক্তব্য ছিল, এই নাটকটি যখন চূড়ান্তভাবে মুক্তি পাবে, তখন সাধারণ দর্শকেরা পুরো ঘটনার পেছনের আসল প্রেক্ষাপট খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। এই পুরো বিষয়টিকে কোনোভাবেই কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নিয়ে বরং পেশাদারত্বের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে বিবেচনা করার জন্য সকলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদারও পুরো ঘটনাটিকে একটি নিছক ভুল–বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, নাটকের মূল দৃশ্যে দুই অভিনেত্রীরই পরস্পরকে প্রতীকী চড় মারার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল। অভিনয়ের উত্তেজনার সময় কোনো একটি চড় হয়তো একটু বেশি জোরে লেগে যাওয়ার কারণে গোটা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে থাকতে পারে।

দুই অভিনেত্রীর এই ধরণের প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছিল অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তখন সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, সংঘের কোনো সদস্যের সঙ্গে পেশাগত কোনো জটিলতা বা অভ্যন্তরীণ মতভেদ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট অভিভাবক সংগঠনকে না জানিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা সম্পূর্ণভাবে তাদের নির্ধারিত আচরণবিধির গুরুতর পরিপন্থী। সেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনার এ ধরনের একতরফা উপস্থাপন সংশ্লিষ্ট অভিনয়শিল্পীদের সার্বিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এই ধরনের যেকোনো ধরনের বিরোধ প্রকাশ্য প্রচারমাধ্যমে না নিয়ে এসে সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মনে করে সংঘ। একই সঙ্গে সংগঠনটি সে সময় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সতর্ক করেছিল যে, সংঘের কোনো সদস্য নির্ধারিত আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

প্রাথমিক এই সতর্কবার্তার পরেই বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সালিস ও মীমাংসার নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল; কিন্তু দুই পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার দীর্ঘ আলোচনার পরও শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের পারস্পরিক সমঝোতা বা ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পরও অভিযুক্ত দুই অভিনেত্রীর কেউই পরবর্তীতে আর কোনো লিখিত জবাব জমা দেননি বলেই দাবি করেছে সংঘ। এই সামগ্রিক ঘটনার ধারাবাহিকতার ফলেই মূলত তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। তবে সদস্যপদ স্থগিতের এই আনুষ্ঠানিক চিঠিতে শুটিং সেটে সহকর্মীকে মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে আলাদা করে কোনো মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি। সংগঠনটির এই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তটি মূলত কারণ দর্শানোর নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়া এবং পূর্বের সালিশ বৈঠকের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই মূলত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে সামিয়া ও তিশার সদস্যপদ স্থগিতের এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের পর থেকে তানজিন তিশা কিংবা সামিয়া অথৈ—কারও তরফ থেকেই নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি সংঘের এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা পরবর্তীতে কোনো উচ্চতর আপিল করবেন কি না, সেই বিষয়েও এখনো পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জয় ও পুতুলের সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

জয় ও পুতুলের সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ