নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসছে ডিসেম্বরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় পদ্মার পানির নায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। প্রয়োজনে এই ঐতিহাসিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আরও একটি লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কাটাখালী পৌর এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
বর্তমান রাজনৈতিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের স্মৃতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই লংমার্চে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেই একই চেতনা আবারও ধারণ করার সময় এসেছে বলে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে মত প্রকাশ করেন।
ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ঐতিহাসিক নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে তিনি জানান যে, এই বাঁধ চালুর আগের তুলনায় পদ্মায় পানির প্রবাহ বর্তমানে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘকাল ধরে তাদের প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার মূল নদীর পাশাপাশি এর সমস্ত শাখা-উপশাখায় প্রয়োজনের তুলনায় পানির মারাত্মক সংকট দেখা দেয় এবং কোনো প্রবাহ থাকে না।
পদ্মা অববাহিকার পানিশূন্যতার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় বঙ্গোপসাগর থেকে নোনা পানি দেশের উজানের দিকে দ্রুত প্রবেশ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি জনজীবন ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি তৈরি করছে বলে তিনি জোরালোভাবে জানান।
বাংলাদেশের কৃষি খাতকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়ার এবং এ দেশের সাধারণ মানুষকে তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো ধরনের নীলনকশা এ দেশের মাটিতে সফল হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর