নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মিরপুর টেস্টের বাজে শট খেলার তীব্র সমালোচনাকে নিজের জ্বালানি বানিয়ে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তাওহীদ হৃদয়। এর আগে সিলেট টেস্টের কঠিন পরিস্থিতিতে দলের বিপদে দাঁড়িয়ে অসাধারণ একটি সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন এই তরুণ ব্যাটার। সেই ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতকটিকেই দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার জোমেল ওয়ারিক্যানের করা ইনিংসের শততম ওভারের প্রথম বল থেকে এক রান নিয়ে এই কৃতির মালিক হন হৃদয়। এর মাধ্যমে তিনি দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নাম লেখালেন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি গড়েছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
মুশফিকের পর দেশের হয়ে এই গৌরবময় অর্জনের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। এই তিন অভিজ্ঞ তারকার পর এবার সেই অভিজাত ক্লাবের সর্বশেষ সংযোজন হলেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়।
ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করতে ৩০৪টি বল মোকাবিলা করেন হৃদয়, যার ইনিংসে সাজানো ছিল ১৯টি চার ও ৭টি চনমনে ছক্কার মার। বর্তমান ম্যাচ ও দলের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে তাঁর এই অনবদ্য ও অসাধারণ ইনিংসের জন্য প্রচলিত কোনো প্রশংসাসূচক বিশেষণই যেন যথেষ্ট নয়।
প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই একপ্রান্ত আগলে রাখেন হৃদয়। তিনি শুধু উইকেটে টিকে থাকেননি, বরং ভীষণ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের রান চাকা সচল রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ইনিংসের বিভিন্ন সময়ে তিনি কখনো অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, আবার কখনো অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা স্পিনার তাইজুল ইসলামকে নিজের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পাশে পেয়েছেন।
অন্যপ্রান্তে একে একে সতীর্থরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ফিরে গেলেও হৃদয় একবিন্দুও মনোবল হারাননি। উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে তিনি একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে গেছেন অবিচলভাবে।
দলের প্রয়োজনের তাগিদে ইনিংসে তিনি যেমন চরম সতর্কতা অবলম্বন করে দেখে শুনে খেলেছেন, ঠিক তেমনি ঢিলেঢালা বল পেলেই সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি আদায় করে নিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর