ভারতের তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক আয়োজন ‘১৬তম কোয়ালিশন অব গ্লোবাল হিয়ারিং হেলথ কনফারেন্স-২০২৬’-এ সংগঠনটির ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়ে এই গবেষণা তুলে ধরেন।
গত ৯ অক্টোবর তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে শ্রী রামচন্দ্র ইনস্টিটিউট অব হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের মূল মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়। এতে বিশ্বের ২৭টি দেশের শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্য খাতের গবেষক, চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তামিলনাডু সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ড. দারেজ আহমেদ।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে দুটি পৃথক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান ও সাতিয়া মুনতাহা। তাদের গবেষণায় বাংলাদেশে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবকদের বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক সচেতনতা এবং বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সেবাকাঠামোর বিভিন্ন দিক বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে এসএসএলটি প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্য ও সহযোগী গবেষকরা হলেন মো. ওয়াকিল আহাদ, মাসুমা সুরাইয়া, মো. রাকিব হোসেন এবং শাহরিয়ার হোসেন রিশাদ। সম্মলনে তারা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং শ্রবণস্বাস্থ্যের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অগ্রগতির বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান জানান, এই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দেশের গবেষক ও প্র্যাকটিশনাররা বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক ধারায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছেন।
তার মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অভিজ্ঞতা দেশের শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের দিকে এগিয়ে নিতে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসএসএলটি সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও পেশাগত সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শ্রবণ স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন চিকিৎসা সেবার পরিধি ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর