নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি নন-লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠান ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স সফলভাবে তাদের কার্যক্রমের দীর্ঘ ৪০ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯৮৬ সালে বিমা সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে বিমা বাজারে পথচলা শুরু করেছিল এই স্বনামধন্য কোম্পানিটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুরু করে দীর্ঘ এই চার দশকের পথপরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আর্থিক মাইলফলক অর্জন করেছে।
দীর্ঘ এই ব্যবসায়িক যাত্রায় কোম্পানিটি মোট ৪৫৩ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের বিমা দাবি সফলভাবে পরিশোধ বা নিষ্পত্তি করেছে। গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে নির্ধারিত সময়ে এই বিপুল পরিমাণ দাবি পরিশোধ করায় বিমা খাতে প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর্থিক লেনদেন ও মুনাফা বিতরণের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এই একই দীর্ঘ সময়ে তারা তাদের শেয়ারহোল্ডার বা শেয়ারধারীদের মাঝে মোট ১৮৩ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করেছে।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্যও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দীর্ঘ চার দশকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স সরকারপক্ষকে সব মিলিয়ে মোট ৮৮ কোটি টাকা কর হিসেবে পরিশোধ করেছে।
প্রতিষ্ঠার চার দশক পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে রাজধানীর অভিজাত র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে একটি বিশেষ আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমা কোম্পানিটি তাদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলো করেন সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের বা বিআইএ-র সম্মানিত সভাপতি সাঈদ আহমেদ।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বা এফবিসিসিআই-র প্রশাসক মো. ফজলুল হকও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই চার দশক পূর্তির অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। নিজের বক্তব্যে তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে সামগ্রিক বিমা খাতের অবদান আরও বহুগুণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান যে, জিডিপিতে বা মোট দেশজ উৎপাদনে বিমা খাতের অবদান বর্তমানে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। অথচ এর বিপরীতে বিভিন্ন উদীয়মান বাজারগুলোতে এই নির্দিষ্ট খাতের গড় অবদান রয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র ব্যতিক্রমী দেশ যেখানে মোটর বিমা করাটা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এই হতাশাজনক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি ‘সড়ক পরিবহন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’ অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বিমা খাতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈশ্বিক ও জাতীয় নানা সংকটের সময়েও এই শিল্প সুরক্ষা দিয়ে গেছে। করোনা মহামারি, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দেশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ এবং বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের নানান সংকটকালে বেসরকারি খাতকে রক্ষা করতে বিমাশিল্প অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা রেখেছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের বিশাল রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের যেকোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সফলভাবে রোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও বেশি কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর