নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রখ্যাত অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক একজন পিতা হিসেবে কেমন মানুষ ছিলেন, সেই বিষয়ে নিজের স্মৃতির কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন বাপ্পী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, অভিভাবক হিসেবে তিনি ছিলেন পুরোপুরি অনন্য। সন্তান হিসেবে তাদের জীবনে যেভাবে বড় হওয়ার প্রয়োজন ছিল, কিংবদন্তি এই অভিনেতা ঠিক সেই আদলেই তাদের লালন-পালন করেছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাপ্পী জানান, সন্তানদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে তার কড়া নজরদারি ও নিয়মানুবর্তিতা ছিল লক্ষণীয়, যার পাশাপাশি তাদের প্রতি ছিল সীমাহীন স্নেহ ও ভালোবাসা। পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়গুলোতে তিনি অত্যন্ত যত্নশীল ভূমিকা পালন করতেন। শুধু তাই নয়, কর্মব্যস্ততার ফাঁকে সপরিবারে ঢাকার বাইরে অবকাশ যাপনে যাওয়াটা তাদের নিয়মিত অভ্যাসের মধ্যে ছিল।
বাপ্পীর ভাষ্যমতে, সেই কঠোর অনুশাসন পরবর্তীতে তাদের জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৈশোর বা তরুণ বয়সে হয়তো মাঝেমধ্যে তাদের মনে হতে পারত যে তিনি কেন এত বেশি কড়া মেজাজ প্রদর্শন করছেন বা রাগারাগি করছেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন তারা উপলব্ধি করতে পারেন যে, তাদের সার্বিক মঙ্গলের কথা চিন্তা করেই তিনি ওই কঠোর পথ বেছে নিয়েছিলেন।
পরিবারে কঠোর কিছু নিয়মকানুন চালু ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ের অর্থাৎ সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে অবস্থান করার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না। এই কড়াকড়ির কথা মাথায় রেখেই তিনি নিজ বাসভবনের ভেতরেই বিনোদন ও খেলাধুলার নানা সুযোগ নিশ্চিত করেছিলেন।
বাড়ির প্রাঙ্গণে খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সুইমিংপুল এবং বিভিন্ন ধরনের পোষা প্রাণী ও বিড়াল পর্যন্ত সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছুটির দিনগুলোতে বাপ্পীসহ অন্যান্যদের বন্ধুরা নিয়মিত তাদের বাসায় এসে সময় কাটাত, যা তাদের সামাজিক জীবনকে আনন্দময় করে তুলত।
ভুল পথে যাওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ তাদের জন্য খোলা ছিল না বলে জানান বাপ্পী। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের পারিবারিক পরিচিতির কারণে সবাই তাদের চিনত এবং কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলেই তৎক্ষণাৎ তা পিতার কানে পৌঁছে যেত।
এই সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তারা সর্বদা অত্যন্ত সতর্ক ও পরিমিত জীবনযাপন করতেন। বাপ্পী স্মরণ করেন যে, তাদের বাবা সবসময় তাদের একটি সুনির্দিষ্ট উপদেশ দিতেন, যাতে তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন যা সমাজের মানুষের কাছে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর