নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ পুলিশি নিরাপত্তার ওপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না এবং সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের স্বার্থে সেখানে অবিলম্বে সেনা মোতায়েন করা অত্যন্ত জরুরি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই জোরালো দাবি পেশ করেছেন। তিনি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগ এনে তাঁকে অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী ময়দানে নজিরবিহীনভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, হামলা চালিয়ে জামায়াতের বহু নারী ও পুরুষ নেতাকর্মীকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক নানা চাপের মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পুলিশ প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের অনৈতিক আদেশের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। এই বাস্তবতায় যত বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্যই মাঠে নামানো হোক না কেন, তাদের মাধ্যমে আদৌ কোনো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে জামায়াত নেতা জানান, ধর্মীয় পবিত্রতা নষ্ট করে মসজিদের ভেতর সোফা সেট পেতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভা চালানো হচ্ছে। অথচ নির্বাচনী আচরণবিধিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারকাজে ব্যবহার করা যাবে না।
এছাড়াও তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী এলাকায় বিধি ভেঙে রঙিন ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মাইক বাজিয়ে জোরেশোরে প্রচারকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে পরওয়ার জানান, ওই আসনে প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, তাদের নানা ধরনের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে তারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকারি চাকরিজীবী, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষকসহ নানা পেশার সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ না করলে তাদের চাকরি থাকবে কি না, এমন অবাস্তব ও ভীতিকর প্রশ্ন তুলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অভিযোগের পরিধি বাড়িয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ কায়দায় মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সরকারি চাকুরিতে কর্মরত চিকিৎসকদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, এই চিকিৎসাসেবা মূলত ধানের শীষের প্রার্থীর রাজনৈতিক অনুকূলে প্রদান করা হচ্ছে। এই গুরুতর অনিয়মের সপক্ষে সমস্ত ছবি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিস্তারিত বিবরণ ইতোমধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন।
ইউএনও খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ এনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তিনি প্রার্থীর সঙ্গে গভীর রাতে গোপন বৈঠক করছেন। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, আর্থিক লেনদেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালানোর মতো গুরুতর কাজ করছেন তিনি।
১৯৯৪ সালের বিতর্কিত মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনকে সেই অতীতের ঘটনার কথা স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে যেন কোনোভাবেই মাগুরা স্টাইলে রূপান্তর করা না হয়। যদি তেমন কোনো অশুভ পরিস্থিতি তৈরি করার পাঁয়তারা করা হয়, তবে তার কেমন রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়েও কমিশনকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর