ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাগমারা ইউপি সদস্য ১২টি সিমসহ অবরুদ্ধ, ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
বাগমারা ইউপি সদস্য ১২টি সিমসহ অবরুদ্ধ, ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলামকে ভাতা উত্তোলনের সময় আটক করেছেন স্থানীয় জনতা।

বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের মাড়িয়া মোড়ে অবস্থিত এনামুল হকের বিকাশ এজেন্টের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম প্রতিবন্ধী না হয়েও নিজের নাম পাশাপাশি বাবা, বোন ও ভগ্নিপতিদের নামে ভাতা বরাদ্দ বাগিয়ে নেন এবং নিজেই তা আত্মসাৎ করে আসছেন।

এদিন ভাতার টাকা তোলার উদ্দেশ্যে দোকানে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন অপারেটরের দশটি সিম কার্ড এজেন্টের হাতে তুলে দেন এবং বাকি দুটি সিম তাঁর নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোনে সক্রিয় রাখা ছিল।

একসাথে এতগুলো সিম দিয়ে লেনদেন করতে চাওয়ায় উপস্থিত লোকজনের মনে সন্দেহের উদ্রেক ঘটে এবং তারা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

জনরোষের মুখে তাঁকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে দোকানের বাইরে টেনে আনা হলে শহিদুলের সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

খবর পেয়ে স্থানীয় হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন এবং জনগণের হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।

তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মাকসুদ রুপক জানান, বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁর নিকট থেকে উদ্ধার করা সিমগুলোর মধ্যে দশটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেয়।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম দাবি করেন যে তাঁর বাবা, ভাই ও ভাতিজির নাম তালিকায় থাকায় তিনি ভাতা পান এবং চেয়ারম্যান নিজেই এই তালিকা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে চেয়ারম্যানের লোকজন তাঁকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে উনষাট হাজার পাঁচশত টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকার প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে অনুদান দিয়ে থাকে যা তিন মাস অন্তর সরাসরি ভাতাভোগীর বিকাশ হিসাবে পৌঁছে যায়।

বিকাশ এজেন্ট এনামুল হক নিশ্চিত করেন যে ইউপি সদস্য ভাতার টাকা তোলার জন্য দশটি সিম কার্ড জমা দিয়েছিলেন কিন্তু হট্টগোলের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

গোবিন্দপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সাবেক আমল থেকেই শহিদুল ইসলাম এই দ্বাদশটি সিমের মাধ্যমে ভাতার অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন এবং আজ টাকা তুলতে গিয়ে জনতার রোষানলে পড়েন।

তিনি আরও বলেন যে ভাতাভোগীর কোটা বরাদ্দ হওয়ার পর তা ইউপি সদস্যদের দেওয়া হয় এবং তারাই যাচাই করে তালিকা চূড়ান্ত করায় এ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন যে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সিমগুলো তাঁর হেফাজতে জমা রেখেছেন।

বাগমারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান জানান, ঘটনার ব্যাপারে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত না হলেও পূর্বেই তদন্ত সাপেক্ষে ইউপি সদস্য ও তাঁর আত্মীয়দের নামে ভাতা নেওয়ার সত্যতা মিলেছে।

ইতিমধ্যে সিমগুলোতে চলতি ভাতার অর্থ জমা হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক কিছু করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান যে ভবিষ্যতে ওই সদস্য আর কোনো ভাতা পাবেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এআইইউবিতে সফলভাবে শেষ হলো চতুর্থ আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং সম্মে

এআইইউবিতে সফলভাবে শেষ হলো চতুর্থ আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং সম্মে