ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কিম কার্দাশিয়ানের আগেই টেলরের ঐতিহাসিক হার পরেছিলেন সোনম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 5, 2026 ইং
কিম কার্দাশিয়ানের আগেই টেলরের ঐতিহাসিক হার পরেছিলেন সোনম ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের মালিকানাধীন অত্যন্ত মূল্যবান পান্না ও হীরার একটি ঐতিহাসিক হারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন রিয়েলিটি তারকা কিম কার্দাশিয়ান ইতালির রোম শহরে অবস্থিত বুলগারির একটি স্টোরে গিয়ে এই বিখ্যাত গয়নাটি গায়ে জড়ানোর সুযোগ পাওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিকাতর হয়ে পুরোনো ছবি প্রকাশ করেছেন বলিউডের খ্যাতনামা ফ্যানিশিয়ন অভিনেত্রী সোনম কাপুর। মূলত কোনো সাধারণ সাজসজ্জার অনুষঙ্গ নয়, বরং বেশ কিছু অলংকার সময়ের পরিক্রমায় রূপ নেয় জীবন্ত ইতিহাসে; আর এই বিশেষ বুলগারি পান্না ও হীরার হারটি তেমনই এক ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

গত ৪ নভেম্বর ইনস্টাগ্রামের পাতায় নিজের কিছু পুরোনো ছবি অনুরাগীদের মাঝে শেয়ার করে বলিউড তারকা সোনম কাপুর সবাইকে মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ানের বহু আগেই ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি সুনির্দিষ্ট ফটোশুট চলাকালীন তাঁর নিজেরও ঠিক এই একই গয়নাটি গলায় ধারণ করার চমৎকার সুযোগ হয়েছিল। তিনি বেশ রসাত্মক ভঙ্গিতে নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করেছিলেন যে, লাল রঙের সঙ্গে গাঢ় সবুজ রঙের এই নান্দনিক মেলবন্ধন যে কতটা চমৎকারভাবে মানিয়ে যেতে পারে, সেই ফ্যাশন-সংক্রান্ত উপলব্ধি তাঁর সেই নির্দিষ্ট কাজের সময়ই পরিষ্কার হয়েছিল। অত্যন্ত মজার ছলে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই বিশেষ হারটির ব্যক্তিগত সামাজিক জীবন বোধহয় আমাদের সাধারণ মানুষের অনেকের জীবনের চেয়েও অনেক বেশি জমজমাট ও বর্ণিল।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ছবিগুলোতে বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুরকে একটি আকর্ষণীয় উজ্জ্বল লাল রঙের কলাম ডিজাইনের ড্রেস পরিধান করতে দেখা গিয়েছিল, যা তাঁর সামগ্রিক রূপসজ্জাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। সুদৃশ্য স্কয়ার নেকলাইন ও বেশ বড় আকৃতির ফোলা হাতাবিশিষ্ট ওই বিশেষ পোশাকটির সঙ্গে তাঁর গলায় শোভা পাচ্ছিল সেই ঐতিহাসিক পান্না ও হীরার বহুমূল্যবান হারটি, যা পুরো সাজে এনে দিয়েছিল রাজকীয় এক আভিজাত্য। পোশাকে ব্যবহৃত লাল এবং গহনার গাঢ় সবুজের এই চমৎকার বৈপরীত্য তাঁর সাজসজ্জার আকর্ষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং নজর কেড়েছিল ফ্যাশনপ্রেমীদের।

সোনমের সেই বিশেষ সাজের চুলগুলো ছিল সাইড-পার্ট করা এবং ঢেউখেলানো, যা তাঁর চেহারায় ফুটিয়ে তুলেছিল এক ক্ল্যাসিক সৌন্দর্য। ঠোঁটে গাঢ় লাল রঙের লিপস্টিক, চোখে নিখুঁত উইংড আইলাইনার এবং চোখের পাতায় ঝিলমিলে গোলাপি আইশ্যাডোর নান্দনিক ব্যবহারে তাঁর পুরো রূপটানে ষাটের দশকের পুরোনো হলিউড গ্ল্যামারের এক জাদুকরী ছোঁয়া স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। তবে এতসব সুন্দর উপাদানের ভিড়েও তাঁর সমগ্র রূপসজ্জার প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু এবং মূল আকর্ষণ হিসেবে আলোকপাত করেছিল ওই ঐতিহাসিক হারটিই, যা সবার নজর কেড়েছিল।

১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই অমূল্য গয়নাটির পেছনে জড়িয়ে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস ও চমৎকার কিছু প্রেমের গল্প, যা একে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের বিখ্যাত বুলগারি পান্নার গয়নাসেটের একটি অন্যতম প্রধান অংশ হলো এই হারটি। বিগত ১৯৬০-এর দশকে ইতালির রোম শহরে ক্লিউপেট্রা নামক বিখ্যাত সিনেমার শুটিং চলাকালীন সময়ে বুলগারির এক্সক্লুসিভ গয়নাগুলোর প্রতি এক গভীর আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করেছিলেন এলিজাবেথ।

পান্না পাথরের প্রতি এলিজাবেথ টেলরের দুর্বলতা ও অগাধ ভালোবাসার কথা খুব ভালো করেই জানতেন তাঁর তৎকালীন স্বামী রিচার্ড বার্টন, আর তাই তিনি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে বিভিন্ন সময়ে নিজ স্ত্রীকে একাধিক মূল্যবান উপহার প্রদান করেছিলেন। বর্তমান বাজারে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সুদৃশ্য হারে রয়েছে ২৩.৪৬ ক্যারেটের একটি চমৎকার আয়তাকার কাটের কলম্বিয়ান পান্না, যার চারপাশজুড়ে নিখুঁতভাবে বসানো রয়েছে ছোট ছোট হীরা। এ ছাড়া এই চমৎকার গয়নাটিতে আরও রয়েছে বিভিন্ন কাটের মোচড় দেওয়া প্রায় ১৬টি পান্না, যেগুলোর সম্মিলিত মোট ওজন প্রায় ৬১ ক্যারেট।

১৯৬২ সালে এলিজাবেথ টেলরের জীবনের ৩০তম জন্মবার্ষিকীর বিশেষ দিনে তাঁর স্বামী রিচার্ড বার্টন তাঁকে একটি চমৎকার পান্নার পেনড্যান্ট উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের উপহার হিসেবে এই সম্পূর্ণ হারটি এলিজাবেথের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা তাঁর গয়নার সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করেছিল। এমনকি ১৯৬৬ সালের জমকালো অস্কার পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানেও অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক হারটি গলায় পরে উপস্থিত হয়েছিলেন হলিউডের সোনালী যুগের এই বিখ্যাত অভিনেত্রী।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে অলস ফেয়ার নামক জনপ্রিয় সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের প্রচারণার কাজে রোমে গিয়ে বুলগারির প্রধান স্টোরে প্রবেশ করে এই হারটি নিজের গলায় পরার সুযোগ পান কিম কার্দাশিয়ান। তাঁর ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট ল রোচের বিশেষ উদ্যোগ ও তৎপরতার ফলেই এই অত্যন্ত বিরল ও বিশেষ অভিজ্ঞতার স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম হন এই মার্কিন তারকা। সে সময় বিশ্বখ্যাত এই হারটির সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই ডিজাইনের আকর্ষণীয় কানের দুলও নিজের কানে পরেছিলেন তিনি।

এলিজাবেথ টেলরের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের গভীর মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করে কিম কার্দাশিয়ান গণমাধ্যমকে জানান যে, ওই প্রয়াত অভিনেত্রীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান বহু বছরের পুরোনো। নিজ জীবনাবসানের ঠিক আগে এলিজাবেথ টেলরের সঙ্গে তাঁর বহুমূল্য গয়নাগুলো এবং সেগুলোর পেছনের অজানা সব রোমাঞ্চকর গল্প নিয়েও কিমের সরাসরি কথোপকথন হয়েছিল। ফলে আজ কিংবদন্তি সেই অভিনেত্রীর নিজ হাতে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক গয়নাটি সরাসরি নিজের গায়ে পরার অভিজ্ঞতা কিমের কাছে অত্যন্ত বিশেষ ও স্মরণীয় একটি ঘটনা হিসেবে চিরকাল রয়ে গেছে।

চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের বিখ্যাত তারকা এলিজাবেথ টেলর থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের ফ্যাশন আইকন সোনম কাপুর এবং পরবর্তীতে জনপ্রিয় মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান—এই তিন প্রজন্মের তারকাদের হাত ধরে গয়নাটি যেন সময়ের সব সীমানা অনায়াসে পেরিয়ে বারবার ফিরে আসছে বর্তমান সময়ের খ্যাতনামা তারকাদের বর্ণিল সাজে। আর এই ঐতিহাসিক গয়নাটি যখনই কোনো তারকার গলায় শোভা পায়, তখনই তা বিশ্ববাসীকে নতুন করে এই সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর কিছু কিছু ক্লাসিক গয়নার আবেদন ও আকর্ষণ কখনো পুরোনো হয় না।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
একই পরিবারের ৩ মাদককারবারি আটক, মানিকগঞ্জে বিক্ষুব্ধ জনতার আ

একই পরিবারের ৩ মাদককারবারি আটক, মানিকগঞ্জে বিক্ষুব্ধ জনতার আ