নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এক ছাত্রীর ছবি অপ্রীতিকরভাবে পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমন আপত্তিকর কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের দশজন শিক্ষার্থীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
উদ্ভূত এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এবং বিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই জোরালো অসন্তোষের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সরাসরি উপাচার্য মহোদয়ের নিকট বিস্তারিত অবহিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায্য কোনো সিদ্ধান্ত চাপানো হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তদন্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ রাখার স্বার্থেই অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে ক্লাসের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তাদের সকল প্রকার শিক্ষাগত ঘাটতি যথাযথভাবে পুষিয়ে দেওয়ার সুব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে আশ্বস্ত করে অধ্যক্ষ আরও জোরালোভাবে মন্তব্য করেন যে, কোনো প্রকার অবিচার বা অনিয়ম তিনি কিছুতেই বরদাশত করবেন না এবং এই প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাইরের কোনো পক্ষের প্রভাব বিস্তারের বিন্দুুমাত্র সুযোগ রাখা হবে না।
অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে অভিযুক্ত ছাত্রের পিতা অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান যে, গত ৭ই অক্টোবর তারিখেই তার পুত্র সন্তানকে বিদ্যালয় চত্বরে অতর্কিতভাবে মারধর করে কতিপয় সহপাঠী।
মারধরের ওই ন্যক্কারজনক ঘটনায় তার ছেলে শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও জখম হয় বলে উল্লেখ করে এই অভিভাবক জানান, ঘটনার পরবর্তী দিনই তিনি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দপ্তরে সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
পরবর্তীতে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তার সন্তানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ ও অপপ্রচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি বাধ্য হয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন।
পূর্ব শত্রুতা ও পুরনো কোনো বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের ওপর এই শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন এবং ছেলের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বর্তমানে তাকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো থেকে বিরত রাখছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর