ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞান শিক্ষায় ঘর্ষণ ও মাধ্যাকর্ষণ বলের গুরুত্ব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
বিজ্ঞান শিক্ষায় ঘর্ষণ ও মাধ্যাকর্ষণ বলের গুরুত্ব ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রাথমিক বিজ্ঞানের বিস্তৃত প্রশ্নে ঘর্ষণ বল ও মাধ্যাকর্ষণ বলের সংজ্ঞা এবং দৈনন্দিন জীবনে এগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ঘর্ষণ বল হলো সেই বিশেষ বল, যা একটি বস্তুর পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে অপর কোনো বস্তুর পৃষ্ঠের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। কোনো তলে যখন আমরা বস্তু সরাতে প্রয়াসী হই, তখন তাদের স্পর্শতলে ঠিক গতির বিপরীত মুখী এই বলের উদ্ভব ঘটে। বিপরীত দিকে, পৃথিবী প্রতিটি বস্তুকে নিজস্ব কেন্দ্রের দিকে যে অদৃশ্য আকর্ষণী শক্তি দ্বারা টানে, তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ঘর্ষণ বলের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আছে বলেই আমরা রাস্তায় সহজে পিছলে না গিয়ে হাঁটতে সক্ষম হই, কলমের সাহায্যে কাগজে লিখতে পারি এবং দেশলাইয়ের কাঠি ঘষে জ্বালাতে পারি। অন্যদিকে, মাধ্যাকর্ষণ বলের অবিরাম টানের কারণেই আমরা নিরাপদে পৃথিবীর বুকে পা ফেলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি এবং যেকোনো জিনিস উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা মহাশূন্যে হারিয়ে না গিয়ে সরাসরি মাটির ওপর পতিত হয়। এই দুটি প্রাকৃতিক বল অনুপস্থিত থাকলে আমাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন চলাচল এবং এই পৃথিবীতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ত।

মসৃণ ও অমসৃণ পৃষ্ঠে বল গড়িয়ে দেওয়ার ফলে বলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন দূরত্ব অতিক্রম করার পেছনে মূলত কাজ করে ঘর্ষণ বলের তারতম্য। মসৃণ মেঝে কিংবা পৃষ্ঠের তলগুলো অত্যন্ত সমান হয়ে থাকে, যার ফলে সেখানে গতির বিপরীতে বাধা প্রদানকারী ঘর্ষণ বল অনেক কম মাত্রায় ক্রিয়া করে। এই কারণে বলটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দূর পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে এবং থামতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় নেয়।

পক্ষান্তরে, খেলার মাঠ কিংবা ঘাসের মতো অমসৃণ পৃষ্ঠগুলো অনেক বেশি খসখসে প্রকৃতির হয়, যার দরুন সেখানে প্রবল শক্তিশালী ঘর্ষণ বল উৎপন্ন হয়। এই জোরালো বাধা দ্রুতগতিতে চলা বলের গতিকে কমিয়ে দেয় এবং বলটি অল্প একটু দূরত্ব অতিক্রম করতেই থেমে যায়। সুতরাং সার্বিকভাবে এটি প্রতীয়মান হয় যে পৃষ্ঠ যত বেশি মসৃণ হবে, ঘর্ষণ বল তত কম হবে এবং যেকোনো বস্তু তত বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।

আমাদের যদি কখনো একটি ভারী পাথর ওঠানোর সুনির্দিষ্ট কাজ দেওয়া হয়, তবে সেটির জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর সরল যন্ত্র হবে ‘লিভার’। লিভারের বিভিন্ন ব্যবহারিক পরীক্ষায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি বা পেনসিলের সাহায্যে খুব সামান্য পরিমাণ শক্তি প্রয়োগ করেই অনেক ভারী বস্তু অত্যন্ত সহজেই ওপরে তোলা সম্ভবপর হয়।

আমরা মূলত এই কারণেই লিভার ব্যবহার করব, কারণ এটি আমাদের প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক সুবিধা প্রদান করে থাকে, যা আমাদের নিজেদের পেশিশক্তির তুলনায় বহু গুণ বেশি বল তৈরি করতে সক্ষম। আমরা যদি ভিত্তিটিকে বা ফালক্রামকে পাথরের যত কাছাকাছি রাখতে পারব, তখন ভারী পাথরটি সরানো আমাদের জন্য ততটাই সহজ হয়ে উঠবে। সরল যন্ত্র আমাদের সামগ্রিক কাজকে সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করে তোলে বিধায় যেকোনো ভারী কাজের ক্ষেত্রে লিভার ব্যবহার করা হলো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।

কোনো কারণে যদি বিদ্যালয়ের আসন্ন বিজ্ঞান মেলায় ‘ঘর্ষণ বল’ ও ‘মাধ্যাকর্ষণ বল’ বিষয় দুটি নিয়ে একটি আকর্ষণীয় প্রদর্শনী করতে হয়, তবে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলা প্রাঙ্গণে প্রদর্শনীটিকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে তোলার উদ্দেশ্যে আমি দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিভাগ বা জোন তৈরি করব।

প্রথম বিভাগটিতে ‘ঘর্ষণ বল’ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য আমি একটি মসৃণ টাইলস এবং একটি অমসৃণ কাঠের তক্তা স্থাপন করব। এই দুটির ওপর দিয়ে ছোট গাড়ি চালিয়ে দর্শকদের সামনে ঘর্ষণের দৃশ্যমান পার্থক্য তুলে ধরব। সেখানে একটি তথ্যবহুল চার্ট থাকবে, যেটিতে গাড়ির চাকার খাঁজকাটা হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘর্ষণের নানা ধরনের সুবিধা ও অসুবিধা বিস্তারিতভাবে লেখা থাকবে।

দ্বিতীয় বিভাগটিতে ‘মাধ্যাকর্ষণ বল’ প্রদর্শনের জন্য একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে বিভিন্ন ওজনের বিভিন্ন বস্তু, যেমন একটি বল, একটি পেনসিল এবং একটি হালকা পালক নিচে ফেলে প্রদর্শন করব। এর মাধ্যমে দর্শকদের দেখাব যে আকৃতির তারতম্য থাকলেও সবকিছুই পরিশেষে মাটির দিকেই পতিত হচ্ছে।

সর্বোপরি, দর্শকদের খুব সহজে বোঝাব যে ঘর্ষণ বল কেবল বস্তুদ্বয়ের পারস্পরিক সংস্পর্শে থাকলেই কার্যকর হয়, কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ বল বস্তু থেকে বেশ দূরে অবস্থানকালেও সমানভাবে কাজ করে। এই উপস্থাপনার একেবারে শেষ পর্যায়ে একটি তুলনামূলক তালিকার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বলের গভীর তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরব।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
এল ক্লাসিকোর উত্তাপ: রেফারি হিসেবে আলোচনায় আলবেরোলা রোহাস

এল ক্লাসিকোর উত্তাপ: রেফারি হিসেবে আলোচনায় আলবেরোলা রোহাস