ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কানাডার নেটওয়ার্কহীন দ্বীপে টাইম মেশিনের আবহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
কানাডার নেটওয়ার্কহীন দ্বীপে টাইম মেশিনের আবহ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কানাডার এক নির্জন ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ব্যাটল হারবার, যেখানে আধুনিক যানবাহনের ইঞ্জিনের শব্দ কিংবা প্রযুক্তির কোলাহল পুরোপুরি অনুপস্থিত। এই অদ্ভুত সুন্দর দ্বীপে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে মাত্র একটি ওয়াই-ফাই জোন রয়েছে এবং মুঠোফোনের কোনো নেটওয়ার্ক এখানে একেবারেই কাজ করে না। কোনো জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হিসেবে প্রতিটি বাড়িতে ওয়াকি-টকি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়।

দ্বীপটির ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করছে ‘দ্য রুমস’ নামের প্রাচীন স্থাপত্যগুলো, যার কাঠ দিয়ে মোড়ানো ঐতিহাসিক ঘরগুলোতে প্রবেশ করলেই যেকোনো মানুষের মনে হবে সে টাইম মেশিনে চড়ে বিশ শতকের শুরুর কোনো যুগে চলে এসেছে। সেকালের লবণ ও খাদ্যপণ্য মজুত করার প্রাচীন গুদামঘরগুলো আজও বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই সুদূর অতীতের ঘ্রাণ ও আবহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়।

এই বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের ‘সল্ট স্টোর’ নামক সুনির্দিষ্ট একটি কক্ষে বসে ১৯০৯ সালে বিশ্বখ্যাত মেরু অভিযাত্রী রবার্ট পিয়ারি মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে উত্তর মেরু আবিষ্কারের ঐতিহাসিক বার্তাটি প্রেরণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং গুগলিয়েলমো মার্কনির উদ্ভাবিত রেডিও তরঙ্গভিত্তিক প্রথম যুগের ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফ টাওয়ারটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে এই দ্বীপে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

দ্বীপের ভূখণ্ডে একটি প্রাচীন গোরস্তানের পাশাপাশি মেরু শিয়ালের অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যায়, যেখানে পাথুরে উচ্চভূমির ওপর গড়ে ওঠা শতাব্দীপ্রাচীন কবরস্থানটি এখন বন্য আর্কটিক বা মেরু শিয়াল পরিবারের স্থায়ী আবাসে পরিণত হয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন কিংবা ভোরের প্রথম আলোয় এই শিয়ালগুলোর দলবেঁধে ছুটাছুটি করা দ্বীপটির সামগ্রিক পরিবেশে এক গা-ছমছমে ও রোমাঞ্চকর রহস্যের আবহ তৈরি করে।

ভ্রমণপিপাসুদের এই দূরবর্তী দ্বীপে পৌঁছাতে হলে প্রথমে কানাডার পূর্ব প্রান্তের প্রদেশ নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরের হ্যাপি ভ্যালি-গুজ বে থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ধরে ঘন বনের মধ্য দিয়ে গাড়িতে করে সড়কপথ পাড়ি দিতে হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ম্যারিস হারবার নামক স্থানে পৌঁছে প্রতিদিন প্রাতঃকালে ছেড়ে যাওয়া নির্দিষ্ট যাত্রীবাহী ফেরিতে চড়ে প্রায় এক ঘণ্টার জলপথ অতিক্রম করে এই দ্বীপে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই রহস্যময় জনপদ বছরের মাত্র নির্দিষ্ট একটি সময়ে, অর্থাৎ জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সাধারণ পর্যটকদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এ সময়ে ভ্রমণের জন্য আসা পর্যটকেরা দ্বীপের শতবর্ষী কাঠ দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংস্কার করা ঐতিহ্যবাহী কটেজগুলোতে রাত্রিযাপনের দুর্লভ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন গানে মডেল ও নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদের পারফরম্যান্স

নতুন গানে মডেল ও নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদের পারফরম্যান্স