ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্ব পুঁজিবাজারে ধস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্ব পুঁজিবাজারে ধস ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয়লাভ করার পর বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের অগ্রগতি শ্লথ হয়ে পড়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগের বশবর্তী হয়ে গত বৃহস্পতিবার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মার্কিন পুঁজিবাজারের সামগ্রিক বাজার মূলধন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মতো হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন বাজারের এই ভয়াবহ পতনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতনের ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কেওএসপিআই আকস্মিকভাবে প্রায় ৯ শতাংশের মতো কমে যায়। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যকার সমস্ত লেনদেন বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ২০ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখতে হয়েছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক এক লাফে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ হ্রাস পায়। গত ৬ অক্টোবর এই সূচকটি নিজেদের ইতিহাসে এক রেকর্ড উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছিল, যেখান থেকে তুলনা করলে বৃহস্পতিবার নাগাদ সূচকের পতন হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

গত বছরের এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবারের আগের দিন পর্যন্ত নাসডাক সূচকের এমন রেকর্ড দরপতন আর দেখা যায়নি। শুধু প্রযুক্তি খাতই নয়, বরং মার্কিন পুঁজিবাজারের অন্যান্য প্রধান সূচকগুলোও বেশ বড় ধরনের পতনের মুখোমুখি হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোনস সূচকের মানও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে এক দিনের হিসাবে এই দুটি প্রধান সূচক একসঙ্গে এত বড় ধরনের পতনের মুখে এর আগে আর কখনো পড়েনি।

অথচ এর ঠিক আগের দিন বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে এক অভাবনীয় ও বড় উত্থান লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেদিন ডাও জোনস সূচক এক লাফে ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং নাসডাক সূচকও ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও সেই মুহূর্তে নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল জনসমক্ষে পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় নিশ্চিত হলে বৃহস্পতিবার ডাও জোনস সূচক এক দিনে ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যায়।

বুধবার প্রধান সূচকগুলোর ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম সেদিনও নিম্নমুখী ছিল। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার এক রকম হিড়িক পড়ে যায়, যার তীব্র প্রভাব গিয়ে পড়ে শেয়ারবাজারের সামগ্রিক প্রধান সূচকগুলোর ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের এই অস্বাভাবিক দরপতনের অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের অপ্রত্যাশিত জয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ অঙ্গরাজ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গুগল, মেটা, ওরাকল এবং ওপেনএআইয়ের মতো নামকরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে চলেছে।

তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়া ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসে নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময় অঙ্গরাজ্যটিতে সাময়িকভাবে ডেটা সেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং এই খাতে বিনিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রচলিত কিছু করছাড় প্রত্যাহারের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে বৃহৎ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হওয়ায় এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে চিপ নির্মাতা কোম্পানি এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ব্যাপকহারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের মূল্য গতকাল এক দিনেই প্রায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি বিশেষ সূচকও এক লাফে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে, যা গত প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে কোনো এক দিনে দেখা যাওয়া সবচেয়ে বড় পতনের রেকর্ড।

অন্যদিকে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম গত বৃহস্পতিবার ১১ শতাংশ কমেছে এবং তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দামও ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের এই রক্তক্ষয়ী দরপতনে কোম্পানি দুটির মালিক ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও গত বৃহস্পতিবার এক দিনে ৮০০ কোটি ডলার কমে গেছে। এর ফলে ওই দিন ব্যবসা শেষে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণ কমে ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। অথচ এর এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের অবিসংবাদিত মালিক হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার পেছনে ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার অনুদান প্রদান করেছিলেন ইলন মাস্ক। মার্কিন দেশের বর্ণাঢ্য নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রদান করা এটাই আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে বিবেচিত। তবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পানির মতো খরচ করেও তিনি ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল জয়রথ রোধ করতে পারেননি। এহেন পরিস্থিতিতে তাঁর নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় যে ইলন মাস্কের স্বত্বাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশযান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম হু হু করে নিচে নামতে শুরু করেছে। এর ফলশ্রুতিতে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের আনুমানিক মূল্যও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কমতে থাকে। প্রখ্যাত ফোবর্স ম্যাগাজিনের রিয়েল টাইম হিসাব অনুযায়ী, আজকের দিনে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ আরও কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
কারচুপি হলে প্রিসাইডিং অফিসারকে খুঁটিতে বাঁধুন: মিয়া গোলাম প

কারচুপি হলে প্রিসাইডিং অফিসারকে খুঁটিতে বাঁধুন: মিয়া গোলাম প