ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই আন্দোলন থামবে: রাহুল গান্ধী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই আন্দোলন থামবে: রাহুল গান্ধী ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভারতের রাজধানী দিল্লির ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করলেই মাত্র অর্ধ মিনিটের মধ্যে সমস্ত আন্দোলন ও বিক্ষোভ চিরতরে থেমে যাবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি এবং বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের কর্মসূচিকে সামনে রেখে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট, ককরোচ জনতা পার্টি এবং বিভিন্ন যুব-ছাত্র সংগঠনের চলমান কর্মকাণ্ডে মধ্য দিল্লির ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোটের পরবর্তী ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দান অভিমুখে অভিযান হওয়ার কথা রয়েছে।

উৎসবের দিনগুলোতে এই কর্মসূচি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ বা সিটিআইয়ের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে একটি খোলাচিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে উৎসবের মরসুমে আন্দোলন বন্ধ রাখার আকুতি জানানো হয়।

উত্তর ভারতে ১০ নভেম্বর শেষ হতে যাওয়া এই উৎসব মৌসুমের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছিল যে, ৬ নভেম্বর ধনতেরাস, ৮ নভেম্বর দীপাবলি এবং ১০ নভেম্বর ভাইফোঁটা রয়েছে। সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল তাঁর চিঠিতে আবেদন করেছিলেন যাতে ১০ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।

চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়েছিল যে, ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দান অভিযান বন্ধ না করা হলে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ইতোমধ্যে তাঁদের ৩ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে এবং আন্দোলন না থামালে তাঁদের নিঃস্ব হতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের এই চিঠির আনুষ্ঠানিক প্রত্যুত্তর হিসেবে রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। ১ নভেম্বরের রামলীলা অভিযানের পোস্টারের সঙ্গে ইংরেজি ও হিন্দিতে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি দিল্লির প্রতিটি ব্যবসায়ীকে আশ্বস্ত করে জানান যে তিনি তাঁদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের সব কথা শোনেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রাস্তা সিল করে দিয়ে পুরো রাজধানীতে এক প্রকার লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণের পর ব্যবসা, সঞ্চয় কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা—কোনো কিছুই আর নিরাপদ থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভোট কারচুপির নানা অভিযোগ তোলার সময় রাহুল গান্ধী পূর্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ছবি প্রদর্শন করেছিলেন। তবে ব্যবসায়ীদের পাঠানো বর্তমান বার্তার উত্তরে তিনি ১, ২ ও ৩ নম্বর অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করে কেবল ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা পুনরায় উচ্চারণ করেন।

রাহুলের এই বার্তার ঠিক একদিন আগে, সোমবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মোদি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ভোট চুরির অসংখ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেও নির্বাচন কমিশনকে বাঁচাতে সরকার সব রকম অসদুপায় গ্রহণ করছে।

তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে নির্বাচন কমিশনের অনীহার কারণেই খাড়গে এই অভিযোগ করেন। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং অসঙ্গতি দূর করতে কোনো বিশেষ প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে একটি আরটিআই করা হয়েছিল।

তবে নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা, বাণিজ্যিক আস্থা রক্ষা এবং মেধাস্বত্ব আইনের বিধানের কারণে তারা ওই প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না।

তেলেঙ্গানার বিশিষ্ট সমাজকর্মী এম এ মুজিব আইয়ুব এই আরটিআই আবেদনটি দাখিল করেছিলেন। তাঁর মূল জিজ্ঞাসা ছিল, ভোটার তালিকার ভুলত্রুটি ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং কিংবা স্বয়ংক্রিয় প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিকস পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে কি না।

কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নাগরিকদের রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে এই লড়াই কেবল ভোটের নয়, বরং দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার ঐতিহাসিক সংগ্রাম। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তর প্রদেশে ১৬ লাখ ১৮ হাজার ফর্ম ৬ সংক্রান্ত আবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

একই রাজ্যের পিলিভিট বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের নথিপত্রে গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়ে গোটা রাজ্যে ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ এর বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, নতুন ভোটার হিসেবে নাম নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে, কারো ভোটাধিকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানাতে ফর্ম ৭ এবং ভোটার তালিকার নিবন্ধনে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে ফর্ম ৮ পূরণ করে আবেদন করতে হয়।

গত ২১ অক্টোবর পিলিভিট কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ার পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট তিন ধরনের ফর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ জারি করেন। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত এই তদন্তের নির্দেশ আসে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভোটারদের ছবি, পরিচয়পত্রের ক্রমিক নম্বর ও আইডি অপরিবর্তিত রাখা হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে যাতায়াত নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর মৃত্যুর

প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে যাতায়াত নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর মৃত্যুর