ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিষ্টি পাকা পেঁপে চেনার সাতটি দারুণ ও কার্যকরী উপায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
মিষ্টি পাকা পেঁপে চেনার সাতটি দারুণ ও কার্যকরী উপায় ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বাজার থেকে পেঁপে ক্রয়ের সময় তা বাইরের দিক থেকে পরিপক্ব মনে হলেও অনেক সময় ভেতরে স্বাদে পানসে হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। তবে কাঁচাবাজার বা ফলের দোকানে গিয়ে একটু সতর্কতার সঙ্গে ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে ফলটি কিনলে প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা বহুগুণ হ্রাস পায়। মিষ্টি ও সুস্বাদু পাকা ফলটি বেছে নেওয়ার কার্যকর কিছু নিয়ম রয়েছে।

পুষ্টিাদানে সমৃদ্ধ পেঁপে সারা বছরই বাজারে জোগান পাওয়া যায়। পেটের গোলযোগ নিবারণ থেকে শুরু করে চর্মের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা—সর্বক্ষেত্রেই এই ফলের কার্যকারিতা অতুলনীয়। রোগীর পথ্য হিসেবেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং অন্যান্য ফলের তুলনায় এর মূল্যও বেশ কম। কিন্তু বাজার থেকে বাসায় এনে যদি দেখা যায় ফলটি মিষ্টি নয়, তবে ক্রেতার মনে তীব্র হতাশার সৃষ্টি হয়।

এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বিক্রেতা মিজান মিয়ার সঙ্গে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আগত মিজান দীর্ঘ তিন দশক ধরে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা অঞ্চলে ফল বিক্রি করে আসছেন। নিজের দোকানের ফল হাতে নিয়ে প্রদর্শনপূর্বক মানসম্মত মিষ্টি পাকা ফল ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় আমলে নেওয়া আবশ্যক, সে বিষয়ে তিনি মূল্যবান কিছু পরামর্শ প্রদান করেছেন।

সম্পূর্ণ সবুজ রঙের কোনো ফল কখনো নিজ থেকে পাকে না। ক্রয়ের পূর্বে লক্ষ্য করুন এর ত্বকে হলুদ কিংবা লালচে আভা বিদ্যমান রয়েছে কি না। বিক্রেতারা একে শির পাকা ফল বলে অভিহিত করে থাকেন। ফলের গায়ে মৃদু খাঁজকাটা রেখা থাকে এবং পরপর দুটি রেখার মধ্যবর্তী উঁচু অংশটিই হলো শির, যেখান থেকেই মূলত পাকা ভাবটি বিস্তার লাভ করে।

যে সমস্ত ফলের ত্বকে এমন গভীর হলুদ কিংবা খানিকটা হলদেটে কমলা বর্ণ পরিব্যাপ্ত থাকে, সেগুলোকে প্রাধান্য দিন। যদি ত্বকে সামান্য সবুজাভ অবয়ব থাকে, তবে বুঝতে হবে তা আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে পেকে যাবে এবং এমন ফলও আপনারা সংগ্রহ করতে পারেন। তবে ত্বকে যদি সমভাবে বর্ণ ছড়িয়ে থাকে, তবে তা থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়।

ক্রয়কালে বুড়ো আঙুল দিয়ে সামান্য চাপ প্রয়োগ করে পরীক্ষা করতে পারেন। ফলটি যদি অতিরিক্ত কঠিন ঠেকে, তবে বুঝতে হবে তা কাঁচা অবস্থায় কিংবা গাছ পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরদিকে যদি বেশি নরম হয়ে আঙুল ভেতরে বসে যায়, তবে তা অধিক পেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেনার সময় মাঝারি নরম পাকা ফল সংগ্রহ করুন, যা আঙুলের চাপে সামান্য দমে গিয়ে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।

ফল ক্রয়ের ক্ষেত্রে এর বোঁটার অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বোঁটা কিংবা এর চারিপাশের অংশ যদি কিঞ্চিৎ খাঁজকাটা এবং লালচে-হলুদ বর্ণের হয়, তবে সেই ফলটি মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। বোঁটার কাঁচা অংশ কিংবা অতিরিক্ত সাদা আঠা জমে থাকলে তা পরিহার করা শ্রেয়। গাছপাকা ফলের গায়ে অতিরিক্ত সাদা কষ দেখা যায় না।

পাকা ফলের একটি সুমধুর ও মৃদু সুবাস থাকে। বোঁটার নিকটবর্তী স্থানে ঘ্রাণ নিয়ে পরীক্ষা করুন। যদি হালকা মিষ্টি গন্ধ পান, তবে নিশ্চিত হতে পারেন যে ফলটি সুস্বাদু ও পরিপক্ব। কিন্তু যদি কোনো ধরনের ঘ্রাণ না পাওয়া যায় কিংবা তীব্র ঝাঁজালো বা পচনশীল দুর্গন্ধ নাকে আসে, তবে তা বর্জন করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হবে।

ত্বকের গায়ে অতিরিক্ত কালচে দাগ কিংবা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকলে তা না কেনাই উচিত। কারণ এটি অভ্যন্তরে কীট পতঙ্গ থাকার কিংবা পচে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে। তবে সামান্য কিছু দাগ থাকলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

বিভিন্ন জাতভেদে ফলের আকার ও আকৃতি ভিন্ন হতে পারে যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে একই জাতের ফলগুলোর মধ্যে তুলনামূলক চিকন আকৃতির ফলটি বেছে নেওয়া উচিত। কারণ মোটা আকৃতির ফলের অভ্যন্তরভাগ অনেক সময় শূন্য থাকে এবং বীজের আধিক্যের কারণে ওজনও বেশি হয়। তাই মাঝারি ও চিকন আকৃতির ফল নির্বাচন করাই উত্তম।

জাতের পার্থক্যের ওপরও ফলের স্বাদের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় এবং কোন অঞ্চল থেকে এটি আসছে তার ওপর মিষ্টতার মাত্রা কমবেশি হয়ে থাকে। মিষ্টতার দিক থেকে প্রথমে আসে থাই রেড লেডি ফল, যার ভেতরটা আগুনরঙা। এরপর রয়েছে শাহি ফলসহ দেশি জাতের মিষ্টি ফল। দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মিষ্টি ফল উৎপাদিত হয় টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুর এবং নওগাঁ অঞ্চলে।

সবশেষে পরামর্শ হিসেবে বলা যায়, পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যায় এমন গৃহের বারান্দা বা ছাদে নিজ উদ্যোগে ফল চাষ করে সব ধরনের ভেজালের উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেয়ে তরতাজা ফল ভক্ষণ করা সম্ভব। এই বিষয়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে শাহি জাতের ফল চাষ করে আসা দিনাজপুরের জুলহাশ আহমেদ রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যিনি রুবেল মিয়ার ফল চাষ নামক একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন।

তাঁর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, বারান্দা বা ছাদে বড় আকৃতির টব, জিও ব্যাগ, অর্ধ ড্রাম কিংবা বেডে অনায়াসেই এই ফল চাষ করা সম্ভব। ভার্মিকম্পোস্ট সার মিশ্রিত বেলে দোআঁশ মাটি দ্বারা টব পূর্ণ করে চারা রোপণ করা যায়। নিয়মিত বারি সেচ ও জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই নিজের রোপণকৃত গাছেই ফলের দেখা লাভ করতে পারবেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে পুকুরের পানিতে ডুবে তরুণ রাফসানের মৃত্যু

রাজশাহীতে পুকুরের পানিতে ডুবে তরুণ রাফসানের মৃত্যু