ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সার্বিয়ায় নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করলেন ভুচিচ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
সার্বিয়ায় নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করলেন ভুচিচ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভোটগ্রহণের পূর্বে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপের ফলে বড় ধরনের অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছিলেন যে, তৃণমূলের শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলেকজান্ডার ভুচিচের দল এসএনএসের মধ্যকার এই প্রতিযোগিতায় ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রচুর অনিশ্চয়তা বিদ্যমান ছিল।

বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ১০ দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সার্বিয়ান নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি গভীর দৃষ্টি রেখেছিল বিশ্ব সম্প্রদায়। চলমান এসব ভোটে কর্তৃত্বপরায়ণ ডানপন্থী রাজনীতির মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো। সার্বিয়ার ছাত্রসমাজ পরিচালিত এই আন্দোলনটির সফলতা ইউরোপের অন্য রাষ্ট্রগুলোতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীর শহরে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় চলমান প্রতিবাদ বিক্ষোভগুলো আরও বেশি গতিশীলতা লাভ করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের প্রত্যাশী সার্বিয়ার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল মূলত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে। সেই সময় নোভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনের একটি কংক্রিটের ছাউনি ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ষোলো জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই নিদারুণ দুর্ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের সক্রিয় নেতৃত্বে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে সেই বিক্ষোভ দ্রুতই একটি ব্যাপক সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে সমর্থ হয়। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ব্যাপক জালিয়াতি এবং দুর্নীতির বেড়াজালেই মূলত ওই ছাউনিটি ধসে পড়েছিল।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা এবং ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা ভুচিচ শেষ পর্যন্ত ছাত্রসমাজের এই আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে পড়েন। গত মাসেই তিনি তার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং আগাম নির্বাচনের আয়োজন করে এক বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নেন।

এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছাত্ররা তাদের চলমান আন্দোলনকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করে। মোট ২৫০ আসনবিশিষ্ট সার্বিয়ান পার্লামেন্টের জন্য তারা ঠিক ২৫০ জন প্রার্থীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতির সামনে ঘোষণা করে। প্রকাশিত ওই প্রার্থী তালিকায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ এবং কৃষকরা স্থান লাভ করেছিলেন। সার্বিয়ার মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতিকে নতুন করে পুনর্গঠন এবং দেশে গণতন্ত্রকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্যই তারা সাধারণ ভোটারদের কাছে অকুণ্ঠ সমর্থন প্রার্থনা করেছিল।

এই জাতীয় নির্বাচনে তরুণ শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ভুচিচের এসএনএস দলের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়তে হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটি দেশের প্রায় প্রতিটি সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছিল। এই সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য এই নির্বাচনী লড়াইটি অত্যন্ত দুরূহ ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পরিবারকে সময় না দেওয়ায় সিঙ্গাপুরে কেঁদে ফেললেন আমির খান

পরিবারকে সময় না দেওয়ায় সিঙ্গাপুরে কেঁদে ফেললেন আমির খান