নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বুধবার ভোরে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের পাশে এক বাস কাউন্টারে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুজন ব্যক্তি টার্মিনাল চত্বরে উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে একজন বাইরে বাইক স্টার্ট করে অপেক্ষা করতে থাকেন এবং অপরজন সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করে শাকের হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক কর্মীরা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রধান সড়কটি আটকে রাখেন। এর ফলে সড়কের দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার জোরালো আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধকারী কর্মীরা পথ ছেড়ে দেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে উপস্থিত লোকজন ভেবেছিলেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্রুত তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, রোগী স্ট্রোক করেছেন মনে করে আনা হলেও তাঁর মাথার পেছনে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার সময় চিকিৎসকরা তাঁর মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি গুলি সফলভাবে উদ্ধার করেন। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন নিজে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। অপরাধের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল মাঠে কাজ করছে এবং তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই সব তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর