নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কানাডার আটটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা আসার পরপরই কানাডার ফিন্যান্সিয়াল ট্রানজ্যাকশনস অ্যান্ড রিপোর্টস অ্যানালাইসিস সেন্টার বা ফিনট্র্যাক একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। উক্ত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়ায় তারা মার্কিন ফিন্যানশিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক বা ফিনসেনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে।
ফিনট্র্যাকের গত শুক্রবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধ করতে এই কেন্দ্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের বিদেশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রেখে থাকে। এ ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করার এখতিয়ারও এই কেন্দ্রের রয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অর্থ পাচারবিরোধী সংস্থা ফিনসেন বিশেষ করে এমএক্সসি গ্লোবাল নামক একটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।
ফিনসেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নতুন নির্দেশনার ফলে যেকোনো মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সেশেলসভিত্তিক এমএক্সসি গ্লোবালের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংস্থাটির জোরালো দাবি, এমএক্সসি গ্লোবাল মূলত ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্বিষ্ট কমপক্ষে ১৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করার পথ সুগম করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইতিপূর্বে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও এই প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরনের অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাদের বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো ইরানের শাসকগোষ্ঠী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস তথা আইআরজিসির সব ধরনের অর্থনৈতিক জীবনরেখা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। উল্লেখ্য যে, কানাডাও ইতোমধ্যে আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার ভারত ও তুরস্কভিত্তিক আরও একটি বিশেষ নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেয়। ইরানের তেল রপ্তানি এবং দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর ওপর পূর্বে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে এড়াতে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর ভারতের চণ্ডীগড় শহরে বসবাসকারী সুনীল কুমার শর্মা এবং তাঁর স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহীদ যৌথভাবে এই নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের চলমান ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির নেতিবাচক প্রভাবেই ইরানের নিজস্ব মুদ্রার বিনিময় হার ইতিহাসের নতুন সর্বনিন্ম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে এবং এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশের মতো রেকর্ড উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া কানাডাভিত্তিক আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথমটি হলো ডাইভার্স ট্রেড ইনকরপোরেটেড, যা অন্টারিও প্রদেশে মিলিয়ন এক্সচেঞ্জ নামে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি হলো ১৩৮০০৭৯ বিসি লিমিটেড, যা ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে আমিন এক্সচেঞ্জ নামে পরিচালিত হয়ে আসছে।
তৃতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে টপ পিসি টেকনিশিয়ান ইনকরপোরেটেড, যা মূলত কানাডার অন্টারিও প্রদেশে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
চতুর্থ প্রতিষ্ঠানটি হলো এনআইএ নেশনস কারেন্সি লিমিটেড, যার মূল অবস্থান ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে।
পঞ্চম প্রতিষ্ঠান হলো ২৩৯৭৬৩৯ অন্টারিও লিমিটেড, যা ফারাহ এক্সচেঞ্জ নামে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে।
ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে সিসিসি ইনকরপোরেটেড, যার অবস্থানও কানাডার অন্টারিও প্রদেশে।
সপ্তম প্রতিষ্ঠানটি হলো বি গ্যালাক্সি ইনকরপোরেটেড, যা ক্রিপ্টোইয়াল নামে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোর ব্যবসা পরিচালনা করে এবং এই প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত ঠিকানা অন্টারিওতে অবস্থিত সিসিসি ইনকরপোরেটেডের ঠিকানার সঙ্গেই পুরোপুরি একই স্থানে অবস্থিত।
সর্বশেষ বা অষ্টম প্রতিষ্ঠানটি হলো দারবিশ এক্সচেঞ্জ, যা কানাডার অন্টারিও প্রদেশে অবস্থিত একটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর