নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারপ্রধানকে নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য প্রকাশের পর গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণকে শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার নজরদারি দলের নজরে আসা ওই ঘটনার পর অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
গত একুশ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ উত্তর ইউনিটের সুসংগঠিত অপরাধ তদন্ত দল ভার্চুয়াল জগতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছিল। সেই সময় তারা ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ শিরোনামের একটি সামাজিক মাধ্যমের সুপরিচিত পেজে প্রবেশ করে বিশেষ এক দৃশ্য দেখতে পান।
উক্ত পেজে ‘মাইশা আনজুম’ নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মোটরযানের ছবি আপলোড করা হয়েছিল। ওই যানবাহনটিতে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী যাতায়াত করেছিলেন বলে জানা যায়।
প্রকাশিত সেই ছবির নিচে মতবড়ির ঘরে ‘মো. আবু বক্কর সিদ্দিক’ পরিচয়ের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর একটি বাক্য লেখা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, কেবল একটি দূরপাল্লার নির্ভুল ঘাতক অস্ত্র বা স্নাইপারের স্বল্পতার কারণেই একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।
এই ধরনের হুমকিধামকি ও উসকানিমূলক বার্তাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তৎপর হয়ে ওঠেন। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।
এরপর গোয়েন্দা শাখার একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি আধুনিক মুঠোফোন জব্দ করে। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণ নিজে থেকেই তার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই আপত্তিকর মন্তব্য লেখার কথা স্বীকার করেন।
ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর পিতাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি অনলাইনে ঘটে যাওয়া এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব দিক বিবেচনা করে এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তরুণটিকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে শেষ পর্যন্ত বিচারিক ব্যবস্থায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর