ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কানসাসে ট্রাম্পের জনসভায় জনস্রোত ও কঠোর নিরাপত্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
কানসাসে ট্রাম্পের জনসভায় জনস্রোত ও কঠোর নিরাপত্তা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও সরাসরি ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী প্রচারণায় স্বচক্ষে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা ছিল முற்றிலும் ভিন্নধর্মী। কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিতা শহরের সন্নিকটে পার্কসিটির হার্টল্যান্ড ক্রেডিট ইউনিয়ন অ্যারেনায় এই রাজনৈতিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যার চারপাশ ঘিরে ছিল কঠোর ও অভেদ্য নিরাপত্তা বলয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসভা স্থলের ওপর আকাশে অবিরাম ড্রোন ও প্লেন চক্কর দেয়। এছাড়া ঘোড়ায় সওয়ার বিশেষ পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় গোটা জনপদ একটি নিরাপদ দুর্গে রূপ নেয়।

এই বিশাল জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই অনলাইনে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ধারিত দিনে আমি সেখানে উপস্থিত হই এবং দুপুর আড়াইটায় যখন মূল ফটক উন্মুক্ত করা হয়, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে অ্যারেনায় প্রবেশের জন্য হাজার হাজার উৎসাহী কর্মী ও সমর্থককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এই দীর্ঘ জনস্রোতে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন এশিয়ান মানুষের উপস্থিতি আমার চোখে পড়েছিল।

বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বহু মানুষ ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পাননি। ভেতরে মানুষের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অ্যারেনার বাইরে অবস্থান নেওয়া হাজার হাজার নাগরিক ডিজিটাল বড় পর্দায় নেতার বক্তব্য উপভোগ করেন।

সুদীর্ঘ প্রবাসজীবনে চলার পথে নানা ধরনের ছোট ও বড় জনসমাবেশ দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। তবে এই অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে জনগণের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার দেখে মনে হয়েছে গণতন্ত্র এখনও টিকে আছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকি রয়েছে এবং এই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য রেখে চলেছেন। কানসাসের রিপাবলিকান ভোটারদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং দলীয় সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে সমর্থন চাইতে গত সোমবার অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর তিনি এই হার্টল্যান্ড ক্রেডিট অ্যারেনায় ভাষণ দেন।

প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট স্থায়ী এই বক্তব্যে তিনি মার্কিন সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার ঘোষণা, অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, কমিউনিস্ট প্রীতি এবং র‍্যাডিক্যাল ইসলামসহ নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ইউরোপ মহাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তিনি অভিবাসীদের সরাসরি দায়ী করেন এবং আমেরিকান ভোটারদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বক্তৃতার একেবারে শুরুতে অ্যারেনার সামনের সারিতে বসা তার অপছন্দের কিছু সংবাদমাধ্যমকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া গণমাধ্যম বলে কটাক্ষ করেন।

মূলত সমাবেশস্থলের বাইরেও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিক্ষোভের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে শতাধিক বিক্ষোভকারী বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন। তাঁদের প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের নানামুখী দুর্নীতির কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যা সাধারণ ভোটাররা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে ফক্স নিউজের করা একটি জনমত জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন সরকারের অভ্যন্তরে ব্যাপক দুর্নীতি শিকড় গেড়েছে। ২০০৬ সালের তুলনায় এই হার প্রায় ত্রিশ পয়েন্ট বেশি এবং এর প্রধান দায়ভার ট্রাম্পের ওপরই বর্তায় বলে অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিশ্বাস করেন।

দেশের সাধারণ মানুষ ও আমেরিকান স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশি গুরুত্ব দেন বলে মনে করেন பெரும்பরিসর মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিকের ধারণা, এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি নানা ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক পন্থার আশ্রয় নিয়েছেন।

রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থান সাধারণ মানুষ হয়তো শেষ পর্যন্ত মেনে নেয়, কিন্তু রাজনৈতিক পদের অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়াটা ভোটাররা মোটেও ভালো চোখে দেখেন না।

অন্যদিকে, মূল বক্তব্যের ঠিক মাঝপথে অ্যারেনার ভেতর থেকেও কিছু মানুষ ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে স্লোগান দিতে শুরু করলে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রতিবাদকারীদের ‘পেইড প্রটেস্টর’ বা আর্থিক সুবিধাভোগী ভাড়া করা বিক্ষোভকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বের করে দেয়।

এই ঘটনার সময় ট্রাম্প উপস্থিত জনতার উদ্দেশে রসিকতা করে মন্তব্য করেন যে পরদিন সকালে সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হবে—‘ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের সমাবেশ অনুষ্ঠিত!’

ঐতিহাসিকভাবে দীর্ঘকাল ধরে রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাসের নির্বাচনী বৈতরণী এবারও তাদের পক্ষেই থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ভোটারদের অন্তত ৪৯ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকলকে দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট প্রদানের অর্থ হলো সাধারণ ভোটারদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা, তাঁদের কোনোভাবেই সহজ শিকারে পরিণত করা নয়। যখন এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে, তখন অগত্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে এর চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

সবশেষে কানসাসের স্থানীয় রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে ভোট দিয়ে এই অঙ্গরাজ্যের অগ্রযাত্রাকে আরও বেশি গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্ধারিত বক্তব্য সমাপ্ত করেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় মন্ত্রীদের পাহারাদারের ভূ

প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ায় মন্ত্রীদের পাহারাদারের ভূ