নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের ওপর আরোপিত নানা বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে যাতায়াতকারী সরাসরি এবং ট্রানজিট রুটের মোট ১৩৪টি ফ্লাইট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত কয়েকটি ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে এবং বাকিগুলো স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন এই ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে যুক্ত ২০ হাজার ২৫৪ জন বিমানযাত্রী, যাদের অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মোট ফ্লাইটের মধ্যে ৬১টি ছিল সরাসরি এবং বাকি ৭৩টি ছিল ট্রানজিটভিত্তিক ফ্লাইট।
আজ বুধবার বিকেলে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমের কাছে পাঠিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেবিচকের সরবরাহ করা বিস্তারিত তথ্যে জানানো হয়েছে যে, সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইট। এ ছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি সরাসরি ফ্লাইটও এই বিঘ্নিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর অবস্থাও ছিল একই রকম। এই ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৮টি ফ্লাইট ছিল ইন্ডিগোর। পাশাপাশি এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ট্রানজিট ফ্লাইটও এই জটিলতার শিকার হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান হামলার ঘটনার কারণেই মূলত রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলোর চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত ২৫ অক্টোবর রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু করেছে এবং আগামীকালের মধ্যেও রিয়াদগামী ফ্লাইট পর্যায়ক্রমে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর