ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এল ক্লাসিকোয় এমবাপ্পের দুই গোলে বার্সাকে হারাল রিয়াল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
এল ক্লাসিকোয় এমবাপ্পের দুই গোলে বার্সাকে হারাল রিয়াল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

স্প্যানিশ লা লিগায় দারুণ ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে বড় ব্যবধানে থামিয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্বাগতিকদের মাঠে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুটি দুর্দান্ত গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের নায়ক বনে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, পরাজিত দলের হয়ে সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি আদায় করে নিয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিচার করে এই রেটিং ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রথম গোলটিতে সরাসরি কোনো দোষ না থাকলেও সামগ্রিকভাবে তিনবার দারুণ সেভ করেছেন গোলরক্ষক, যার মাঝে একটি নিচু শট ঠেকানো বেশ জরুরি ছিল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি তারকা এগিয়ে আসার আগের মুহূর্তে ডি-বক্সের বাইরে দৌড়ে এসে বল বিপদমুক্ত করেন।

খেলার প্রথম অর্ধের ত্রিশ মিনিটের মাথায় মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন এই খেলোয়াড়। এর আগে প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন। ফলে নিজের আসল সামর্থ্য ফুটিয়ে তোলার পর্যাপ্ত সুযোগ তিনি পাননি।

পায়ের কাজে চমৎকার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন মাঠে। দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি ফরোয়ার্ডকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রাখলেও শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বিজয়ী গোলের সময় সতীর্থের কাছে পরাস্ত হন।

প্রথম গোল খাওয়ার ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে জড়িয়ে পড়েন এই ডিফেন্ডার। তাঁর থেকে ক্লিয়ার হওয়া বল প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে হেড থেকে জালের দেখা পাওয়ার সুযোগ আসলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য সেভে তা ব্যর্থ হয়।

স্বাগতিকদের রক্ষণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। আক্রমণে নিয়মিত সামনে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেটপিস থেকেও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেন। ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ চারটি সুযোগ সৃষ্টির কৃতিত্ব তাঁর। তবে শারীরিক শক্তিতে তাঁকে কয়েকবার পেছনে ফেলে দেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার।

মাঝমাঠে বলের দখল রাখা এবং নিখুঁত পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ গোছানো ছিলেন। ছিয়ানব্বইটি পাসের মধ্যে চৌদ্দটি সঠিকভাবে লক্ষ্যে পৌঁছেছে। সেটপিস থেকে আসা হুমকিও দক্ষতার সঙ্গে বিপদমুক্ত করেছেন। প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তে তাঁর নেওয়া নিচু শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে দারুণ পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল।

প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমতা ফেরানোর নেপথ্য কারিগর তিনি। শট নেওয়ার মতো ভান করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত করেন, এরপর দারুণ এক পাসে সতীর্থ ফরোয়ার্ডকে গোল করার সুযোগ উপহার দেন। তবে প্রথমার্ধে একাধিকবার বল হারিয়ে ফেলায় প্রতিপক্ষ দল পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পেয়েছিল।

অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বেশ সক্রিয় ছিলেন পুরো সময়। তাঁর একটি জোরালো শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। মার্ক কুকুরেয়া তাঁকে বারবার ফাউল করলেও শেষ পর্যন্ত ফিনিশিং পাসে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। খেলার চুয়াত্তর মিনিটে কোচ তাঁকে বদলি করেন।

কুকুরেয়ার জন্য পুরো ম্যাচজুড়ে চরম অস্বস্তির কারণ ছিলেন এই তরুণ তুর্কি। দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করার খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলেন। রিয়ালের রক্ষণভাগে সর্বোচ্চ এগারোটি বল স্পর্শ করার পাশাপাশি চারটি সফল ড্রিবল করেছেন। সব মিলিয়ে পারফরম্যান্স খারাপ না হলেও প্রথমার্ধে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সহজ সুযোগ নষ্ট করায় আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাঁকে।

এল ক্লাসিকোর মতো বড় মঞ্চে অভিষেকেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই ইংলিশ উইঙ্গার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একাধিকবার সেভ করতে বাধ্য করেন। বিরতির ঠিক আগে সতীর্থের যে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা এসেছিল তাঁরই পাস থেকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে বদলি হওয়ার পূর্বে হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাঁকে।

স্বাগতিক শিবিরের সেরা পারফর্মারদের নিঃসংকোচ বলা চলে। দলনেতার মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থের পাস থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন। মাঠ ছাড়ার আগপর্যন্ত তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণাত্মক ফুটবলার।

বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমার্ধেই মাঠে নামার প্রয়োজন পড়েছিল। বাঁ প্রান্তে বেশ গতিশীল ছিলেন, এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডকে দারুণভাবে থামান। অবশ্য পরবর্তীতে ফরাসি ফরোয়ার্ডকে ফাউল করার অপরাধে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।

চুয়াত্তর মিনিটে মাঠে নেমে দলের আক্রমণের গতি সচল রাখতে সাহায্য করেন। তাঁর একটি গোলমুখী শট প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় দারুণ দক্ষতায় ব্লক করে দেন।

বল নিজের পায়ে রাখা এবং উঁচুতে প্রেস করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। শতকরা বাষ্পাট্টি ভাগ বল দখলে রাখার পরও সতেরোটি শট নিয়ে সেই আধিপত্যকে জয়ে রূপ দিতে পারেনি। শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণের মুখে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অসুস্থ মূল গোলরক্ষকের বদলি হিসেবে নেমেও বেশ চমৎকার খেলেছেন। লক্ষ্যে থাকা ছয়টি শটের মধ্যে পাঁচটিই রুখে দিয়েছেন তিনি। রাফিনিয়ার গোলটি না আটকাতে পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ শট ঠেকিয়ে দলকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান।

রাইটব্যাক পজিশনে মূলত প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। বাষ্পাট্টি মিনিট পর্যন্ত রক্ষণভাগে দারুণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেন। এরপর তাঁকে বদলি করা হয়।

রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ও ক্লিয়ারেন্সসহ মোট উনিশটি রক্ষণাত্মক হস্তক্ষেপ করেছেন। ট্যাকল জিততে না পারলেও খেলা পড়ার দারুণ ক্ষমতা ও বাতাসে ভেসে থাকা বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দক্ষতায় প্রতিপক্ষকে সুবিধাজনক জায়গায় যেতে দেননি।

প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে নিজের শারীরিক শক্তি পুরোদমে কাজে লাগিয়েছেন। আঠাশটি পাসের মধ্যে ছাব্বিশটিই সঠিক ঠিকানায় পৌঁছেছে, ট্যাকলস ও ব্লক ছাড়াও চারটি ক্লিয়ারেন্স মিলিয়ে রক্ষণে মোট নয়টি অবদান রেখেছেন।

উদীয়মান তারকাকে আটকে রাখার কঠিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর ওপর। প্রতিপক্ষের ড্রিবলিংয়ের কারণে দুয়েকবার সমস্যায় পড়তে হলেও নিজের রক্ষণাত্মক অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণের সৃজনশীলতা কমিয়ে রাখতে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

মাঝমাঠে রিয়ালের অন্যতম ভরসার প্রতীক। ছেচল্লিশটি পাসের মধ্যে চুরাশি শতাংশ সঠিকভাবে বণ্টন করেছেন, যেখানে সাফল্যের হার ছিল বেশ উচ্চ। এগারোবার বল রিকভারিও করেছেন। রক্ষণভাগের ঠিক সামনে থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার পাশাপাশি প্রবল চাপের মুখেও বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মাঝে সাঁতারের মতো সেতু বন্ধন তৈরি করেছেন। বল দখলে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও দলের ওপর চাপ সামলে দ্রুত আক্রমণে বল পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন। আংশিক সময়ে আশি মিনিটে তাঁকে বদলি করা হয়।

মূল ফরোয়ার্ডের পর রিয়ালের আক্রমণভাগে সবচেয়ে ধারাবাহিক ভয়ের কারণ ছিলেন। মোট পাঁচটি শট নেন, যার মধ্যে তিনটি সরাসরি লক্ষ্যে ছিল। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষায় ফেললেও জালের দেখা পাননি।

নম্বর টেন পজিশনে খেললেও গোলের সামনে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। আটাত্তর মিনিটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের প্রভাব খর্ব করতে তাঁর শারীরিক পরিশ্রম ও অবস্থান বেশ ফলপ্রসূ ছিল।

বাঁ প্রান্তে মূল দায়িত্ব পালন করেছেন দলের রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে তাঁর একটি শট প্রতিহত হয়। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে তাঁকে বদলি করা হয়।

ম্যাচের প্রকৃত রূপকার ও সেরা খেলোয়াড়। তাঁর জোড়া গোলেই কাঙ্ক্ষিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধের শুরুতে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, খেলা শেষের দিকে পাল্টা আক্রমণ থেকে বিজয়ী গোলটি আদায় করেন। সুযোগ লুফে নেওয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা ও গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে তছনছ করে দেন। এই ম্যাচে ক্লাবের হয়ে শততম গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।

বাষ্পাট্টি মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নতুন উদ্যমে। ডান প্রান্তে নতুন গতি সঞ্চারের পাশাপাশি রক্ষণভাগে জমাট ভাব বজায় রেখে দলের জয় নিশ্চিত করতে দারুণ অবদান রাখেন।

বল নিজের পায়ে রাখার সুযোগ প্রতিপক্ষকে দিয়ে কাউন্ট্যার অ্যাটাক করার নিখুঁত কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন কোচ। রক্ষণভাগে নতুন খেলোয়াড় খেলানোর সিদ্ধান্তও দারুণ কাজে দিয়েছে। সমতাসূচক গোল হজম করার পর অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দল আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নেয়। সবমিলিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে একটি ট্যাকটিক্যাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেল কোচ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পৌঁ

ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেল কোচ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পৌঁ