নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অর্থসংকটের কারণে যারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এমন সাত শতাধিক গরিব ও দুঃস্থ রোগী সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র পেয়েছেন।
ভোলা সদর উপজেলার স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি মো. সালাউদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া এবং কাছের জিনিস দেখতে পাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার খরচের সামর্থ্য না থাকায় এতদিন তিনি কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেননি। তবে এই মেডিকেল ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়ে তিনি দারুণ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
একই এলাকার বাসিন্দা কোহিনূর বেগম তার চোখের বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তার চোখ দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হচ্ছিল। কোনো খরচ ছাড়াই এখানে এসে চিকিৎসক দেখাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন।
চক্ষু চিকিৎসক ও সার্জন মো. শাকিব হোসাইন পরামর্শ দিয়ে বলেছেন যে, চোখের কোনো সমস্যাই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা এবং দৃষ্টিশক্তিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।
তিনি আরও জানান, এই ক্যাম্পে ছানি পড়া রোগী ছাড়াও চোখে মাংস বৃদ্ধি, পানি পড়া, নেত্রনালির সমস্যা এবং অ্যালার্জিতে আক্রান্ত বহু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির ভোলা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর মো. নুরনবী জানান, সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মহৎ লক্ষ্য নিয়েই তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইংরোজ আলম টিমন জানান, এর আগেও ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছিল।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর