ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণ, ধামাচাপার চেষ্টার পর মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণ, ধামাচাপার চেষ্টার পর মামলা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ও বলপ্রয়োগ করে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতর নিয়ে ধর্ষণের ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে সকল বাধা উপেক্ষা করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন মিয়া, যাঁর বয়স পঞ্চাশ বছর। স্থানীয় একটি বাজারে আসবাবপত্র বিক্রির একটি দোকান রয়েছে তাঁর। জঘন্য এই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

মামলার বিবরণী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে প্রকাশ পায় যে গত বৃহস্পতিবার প্রাতঃকালে গ্রামেরই একটি বাজারে ভোজ্যতেল কিনতে গিয়েছিল ওই দশ বছরের শিশু। সেখান থেকে বাজার সওদা শেষ করে নিজ বাড়িতে ফেরার প্রাক্কালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে কৌশলে ও বলপ্রয়োগ করে নিজের দোকানের ভেতর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান এবং বনিকের এই নির্যাতন চালান।

অপরাধ সংঘটনের সেই মুহূর্তে অবুঝ শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করা হয় এবং মুখ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যে তাকে একটি কুড়ি টাকার কাগজী নোট ধরিয়ে দিয়ে দোকানকক্ষ থেকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগী শিশুটি তার জননীর কাছে ঘটে যাওয়া সমস্ত বিবরণ খুলে বলে।

শিশুর জন্মদাতা পিতা গুরুতর অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে জানান যে বিচারপ্রার্থী পরিবারটিকে দমিয়ে রাখতে সালিশি বৈঠকের নামে এই ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার গভীর চক্রান্ত হয়েছিল। গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের সক্রিয় উপস্থিতিতে একটি গোপন বৈঠক বা সালিশ বসেছিল।

উক্ত বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেবল ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি মীমাংসা করার পাঁয়তারা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী બાળকের বাবা এই অন্যায় প্রস্তাবে কোনোভাবেই সম্মত হননি। তিনি যখন ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আইনের পথে হাঁটার কথা ব্যক্ত করেন, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ওই রাজনৈতিক নেতা তাঁকে নানা ধরনের ভীতিপ্রদর্শন ও হুমকি দেন।

পরবর্তীতে সকল হুমকিকে উপেক্ষা করে গত শনিবার রাতে অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে থানায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এই মামলা গ্রহণ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক নেতা রবিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন যে ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা কেবল সকলে মিলে একত্রিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, তবে সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক সালিশ বসেনি।

তিনি আরও দাবি করেন যে এই ধরনের অপরাধের বিচারক কখনো সালিশি বৈঠক হতে পারে না। ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এর সঠিক বিচার সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে নির্যাতিত শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদরের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। কসবা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান যে আজ সকালে ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রথমে তাঁদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এরপর উন্নততর ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজনে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এই সার্বিক বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মোহাম্মদ রাশেদ গণমাধ্যমকে জানান যে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে সমগ্র বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছে। অপরাধ সংঘটনের পর থেকেই অভিযুক্ত আসবাব বিক্রেতা পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বঞ্চিতদের খেলায় ফেরাতে কাজ করা শারমিনের পেলের প্রতি আবেগ

বঞ্চিতদের খেলায় ফেরাতে কাজ করা শারমিনের পেলের প্রতি আবেগ