ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সেঞ্চুরি পেলেও নিজের ভুল স্বীকার করলেন সাদমান ইসলাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
সেঞ্চুরি পেলেও নিজের ভুল স্বীকার করলেন সাদমান ইসলাম ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতা ও ব্যাটারদের ব্যাটিং পদ্ধতির নানা দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাদমান ইসলাম সতীর্থদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। কখনো নিজের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা আবার কখনো অকপটে দায় স্বীকার করে তিনি জানান, প্রথম ইনিংসে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই দলের সাতটি উইকেট পতনের কারণ ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি ইনিংসটিই আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিন ধরে ওপেনিং পজিশন নিয়ে বেশ বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এমন পরিস্থিতিতে সাদমানের তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছানো পুরো দলের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি অর্জনের পর নিজের জন্যও এটি বড় স্বস্তির বিষয় বলে জানান এই ওপেনার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বড় বড় লক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাদমান বলেন, শীর্ষ সারির ব্যাটাররা যদি দলীয় সংগ্রহ আরও একটু বাড়িয়ে ১৫০, ১৭০ বা ২০০ রান পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারতেন, তবে দলের মোট রান সাড়ে চার শ থেকে পাঁচ শ ছাড়িয়ে যেতে পারত। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি আরও যোগ করেন যে, ভবিষ্যতে এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হলে ইনিংসটি আরও দীর্ঘ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বড় স্কোর গড়ার পথে বড় ইনিংসের জন্য সাদমানকে বেশ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সেঞ্চুরিটি এসেছে দীর্ঘ ১৭টি ইনিংস পর। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে টেস্ট ক্রিকেটের ওপেনারদের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি সপ্তম স্থানে অবস্থান করছেন। এই সময়ে আটটি হাফ সেঞ্চুরি আদায় করলেও টেস্টে তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা মাত্র একটি। ভালো সূচনা পাওয়ার পরও সেই ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে পুড়িয়েছে।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে নিজেই নানা দেনদরবার ও চিন্তাভাবনা করেছেন এই ব্যাটার। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তিনি উল্লেখ করেন, ঠিক কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে তিনি বারবার আউট হয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক গবেষণা করেছেন। তাঁর কাছে মনে হয়েছিল শারীরিক ফিটনেসের ঘাটতি থাকতে পারে, তাই ফিটনেস নিয়ে আলাদাভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং ব্যাটিংয়ের ত্রুটিগুলোও সংশোধনের চেষ্টা চালিয়েছেন।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে উদ্বোধনী জুটি নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। গত চার বছরের দীর্ঘ সময়ে টেস্টে এক শ রান পেরোনো উদ্বোধনী জুটি মাত্র একটিই দেখা গেছে, যা ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে গড়েছিলেন জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন। দলের একজন ওপেনার হিসেবে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছেন সাদমান।

ওপেনিংয়ে একটি চমৎকার জুটি গড়ে তোলার উপায় নিয়ে এখন দলে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো এই জুটির মাধ্যমে দলের রানকে বড় করা এবং দলকে একটি সুবিধাজনক ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

বর্তমানে মিরপুর টেস্টের লড়াইয়ে দুই দলই প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে আছে এবং তাদের হাতে রয়েছে ৬টি উইকেট। ক্যারিবীয়রা ইনিংসের শুরুতে ভালো করলেও আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্পিনারদের নৈপুণ্যে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বাংলাদেশ।

আজ সকালের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ব্যাটারদের দ্রুত অলআউট করে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাগতিক দল। এই সাফল্যের জন্য দলের স্পিনারদের দিকেই বিশেষ ভরসা রাখছেন সাদমান। সঠিক লাইন ও লেংথে বল করে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দ্রুতই আরও উইকেট শিকার করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জন ক্যাম্পবেল মনে করেন যে, উইকেটে আরও এক বা দুটি বড় জুটি গড়ে উঠতে পারলে তাঁদের দল ম্যাচে সুবিধাজনক জায়গায় চলে যাবে। আজকের দিনটি নিয়ে তিনি বলেন, ম্যাচটি বর্তমানে বেশ সমানে সমান অবস্থায় রয়েছে এবং তারা যদি বড় জুটি গড়তে পারেন, তবে খেলায় তারাই এগিয়ে থাকবেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গ্যাস অনুসন্ধানে দুইটি রিগ কেনার উদ্যোগ

গ্যাস অনুসন্ধানে দুইটি রিগ কেনার উদ্যোগ