নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি বা সিডিপির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দুর্বলতা বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এই ধরনের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকেও এটি সীমিত করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সার্বिक পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিডিপির পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে জাতিসংঘের এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বাড়তি সময় পেলেও দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে, কেবল অতিরিক্ত সময় পাওয়ার মাধ্যমেই সব ধরনের কাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে না। দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাঁর দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণের এই অতিরিক্ত সময়কে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক কাজে যথাযথভাবে ব্যবহার করাই হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও মূল পরীক্ষা।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, এই বাড়তি সময় হয়তো দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিকে সাময়িক স্বস্তি বা প্রশান্তি দিতে সক্ষম হবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই স্বস্তি কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজের প্রকৃত বিকল্প হতে পারে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
ড. ফাহমিদা খাতুনের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রাপ্ত এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে দেশের সার্বিক উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন এবং সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিতে হবে।
এ ছাড়া দেশের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, কাস্টমস বা শুল্ক প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার বাড়াতে হবে। এসব সুনির্দিষ্ট খাতের উন্নয়নে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন।
পরিশেষে, কেবল অভ্যন্তরীণ খাতের সংস্কারই নয়, বরং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও বেশি গতিশীল ও টেকসই করার তাগিদ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর