ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার মাটিতে মানব পাচারের ভয়াবহ চিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
রাশিয়ার মাটিতে মানব পাচারের ভয়াবহ চিত্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আমাদের দেশের অসৎ ব্যক্তিরা এবং যেসকল রাষ্ট্রে মানব পাচার সংঘটিত হয় সেখানকার অসৎ চক্রের সহায়তা ছাড়া এই অপরাধমূলক কার্যক্রম চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারি মহলের কোনো কোনো কর্মকর্তা এই অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকেন। এই বিষয়গুলো বর্তমানে এমন এক ওপেন সিক্রেট বা প্রকাশ্য তথ্যে পরিণত হয়েছে যে এ নিয়ে আর কেউই নতুন করে অবাক হয় না। এই অপরাধের দুষ্টচক্রটি যদি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হয়, তবে সরকারের তরফ থেকে যেমন আন্তরিক সদিচ্ছা থাকা জরুরি, ঠিক তেমনি নিজেদের ভাগ্য বদলাতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষগুলোরও যথেষ্ট সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে পূর্বের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার মাটিতে মানব পাচারের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা মাত্রা ও পরিধিগত দিক থেকে আরও অনেক বেশি ভীতিকর। অতীতে যে সোভিয়েত ইউনিয়নে মূলত উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিশেষজ্ঞ হওয়ার উদ্দেশ্যে বাঙালি শিক্ষার্থীরা পাড়ি জমা দিত, সেই একই রাষ্ট্রে বর্তমানে অবৈধভাবে মানুষ পাচার করা হচ্ছে এবং তাদের সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই বিপজ্জনক মরণখেলা যদি অবিলম্বে প্রতিহত করা না যায়, তবে এক দিকে যেমন আদম ব্যবসায়ীদের অবৈধ আয় জ্যামিতিক হারে বাড়তেই থাকবে, অন্য দিকে অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ময়দানে প্রাণ হারানো দরিদ্র ও নিঃস্ব পরিবারের সংখ্যাও সমানতালে বৃদ্ধি পাবে।

সাধারণ মানুষ কেন এই সর্বনাশা ফাঁদে স্বেচ্ছায় পা দিচ্ছে? এর প্রাথমিক উত্তর হলো, বেকারত্বের তীব্র গ্লানি সহ্য করতে না পেরে দেশের বহু মানুষ বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। একটু সচ্ছলতা ও সুখের মুখ দেখার তীব্র আশায় তাঁরা তাঁদের কষ্টার্জিত জমানো টাকা এবং পৈতৃক জমি পর্যন্ত বিক্রি করে সেই অর্থ দালালচক্রের হাতে তুলে দেন। দালালেরাও তখন অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নানা রকম লোভনীয় আশ্বাস দেয় যে, নির্দিষ্ট ওই দেশে গিয়ে পৌঁছামাত্রই থোকা থোকা টাকা তাদের পকেটে এসে জমা হবে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চরম আর্থিক অনটনের কারণেই মানুষ তখন রাশিয়ার যেকোনো ধরনের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত বেতনের বড় অঙ্কের প্রলোভন।

দালালদের পক্ষ থেকে বেতনের যে বিশাল অঙ্কের কথা মুখে বলা হয়, তার সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক মূল বেতনের কোনো ধরনের মিল বা সামঞ্জস্য থাকে না। মজার ব্যাপার হলো, এই প্রতারক চক্রের দালালেরা সাধারণত ভুক্তভোগীদের পূর্বপরিচিত কোনো না কোনো মানুষই হয়ে থাকে। পরিচিত মুখ, আত্মীয়স্বজন, কথিত বৈধ নিয়োগকারী সংস্থা, ভিসা এবং বিমান টিকিট—সবকিছু মিলিয়ে এই নিখুঁত প্রতারণাকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি লোভনীয় ও প্রকৃত চাকরির সুবর্ণ সুযোগ বলেই মনে হতে পারে। চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যে চরম অস্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়, তা তো বর্তমানে দিনের আলোর মতো স্পষ্টভাবেই দৃশ্যমান হচ্ছে।

রাশিয়া কেন বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্র থেকে দালালদের মাধ্যমে লোক সংগ্রহ করছে? এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর আজ কমবেশি সবারই জানা রয়েছে। আমাদের অবলীলায় মনে পড়ে যাবে যে, আফগানিস্তানের তৎকালীন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিতে ১৯৭৯ সালে যে বিপুলসংখ্যক সোভিয়েত সেনা সেই দেশে প্রবেশ করেছিল, তাদের একটা বড় অংশই শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দী হয়ে অর্থাৎ লাশ হয়ে নিজ দেশে ফিরে এসেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর একটানা ধরে সোভিয়েত সেনাদের আফগানিস্তানে সামরিক উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করেই কি আজ নিজেদের দেশের নিয়মিত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে বাইরের গরিব দেশের অসহায় মানুষকে সরাসরি যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? এই চরম অসহায় মানুষগুলোর মধ্যে থেকে একজনও কি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে বিদেশি সেনাদলে নাম লিখিয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়ার জন্য কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে?

চলমান মানব পাচার ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার বা অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। আদম ব্যবসায়ীদের সামগ্রিক অবৈধ কার্যক্রম যদি কঠোর ও তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসা না হয় এবং এ ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক কাজ করলেই যদি তাদের দ্রুত কঠিন শাস্তির মুখোমুখি না করা হয়, তবে দেশের এই অসহায় গরিব মানুষেরা কখনোই এই সর্বনাশা চক্রের হাত থেকে চিরতরে নিষ্কৃতি পাবে না। আমাদের দেশের সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সরাসরি রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এই স্পর্শকাতর ঘটনার বিষয়ে দ্রুত একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া অত্যন্ত জরুরি ও অবশ্যকীয়।

ইউরোপের এই প্রান্তে রাশিয়া ও ইউক্রেন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং সেই লড়াইয়ে কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অকারণে মৃত্যুবরণ করবেন আমাদের দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষেরা, এই করুণ বাস্তবতা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি উত্তরণে যে সমস্ত পদক্ষেপ অবশ্যকরণীয় বলে বিবেচিত, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানে আলোচনা করা হলো।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের জোরালো দাবি জেলেদের

বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের জোরালো দাবি জেলেদের