ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রবীণদের সুস্থ রাখতে একাকিত্ব দূর করার তাগিদ বিশিষ্টজনদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
প্রবীণদের সুস্থ রাখতে একাকিত্ব দূর করার তাগিদ বিশিষ্টজনদের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বয়োবৃদ্ধ নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের জীবন থেকে নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দূর করার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে হলে তাঁদের কেবল পারিবারিক স্নেহ-ভালোবাসা ও নৈকট্য দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজে তাঁদের মেলামেশা ও যোগাযোগের পরিধিও ব্যাপকভাবে প্রসারিত করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রবীণ নাগরিকদের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মতো উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির ওপরও তাঁরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

উক্ত জমকালো অনুষ্ঠানে দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে অসামান্য অবদান রাখা তিনজন প্রথিতযশা গুণী ব্যক্তিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত এই তিন বিশিষ্ট নাগরিক হলেন দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সম্মানিত সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্মানিত উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং প্রবীণ কৃষিবিজ্ঞানী জহুরুল করিম। পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের সুযোগ্য চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল হক।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সম্মাননাপ্রাপ্ত ও আমন্ত্রিত অতিথিদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা দিন দিন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অবহেলা বা উপেক্ষার করার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর মতে, দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সঞ্চিত দক্ষতা গোটা সমাজের জন্যই অমূল্য সম্পদ, যা বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত।

বিশিষ্ট চিকিৎসক এ কে আজাদ খান আরও যোগ করেন যে, প্রবীণদের উন্নত জীবনযাত্রা ও মানসিক শান্তির জন্য শুধু প্রচুর অর্থসম্পদ থাকাটাই সবকিছু নয়, এর পাশাপাশি পরিবারের আন্তরিক ভালোবাসা, সন্তানদের সান্নিধ্য এবং মানসিক সমর্থন অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি এবং সোসাইটির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান তাঁর বক্তব্যে একটি প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনের পাশাপাশি নারী ও শিশুবান্ধব সমাজ বিনির্মাণের ওপর জোরালো তাগিদ দেন। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে জানান যে, এজন্য সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সব বয়সের মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সভাপতির ভাষণে হোসেন জিল্লুর রহমান আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, বয়োবৃদ্ধ নাগরিকদের কখনোই করুণার পাত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং তাঁদের প্রতি দেখাতে হবে যথাযথ সম্মান ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। তরুণ প্রজন্ম ও প্রবীণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতার নিরবচ্ছিন্ন আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এর মাধ্যমে উভয় প্রজন্মই সমভাবে উপকৃত হতে সক্ষম হবে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রবীণদের প্রাত্যহিক জীবনের নিঃসঙ্গতার দিকটি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহু প্রবীণ ব্যক্তির প্রচুর বিত্তবৈভব ও ধনসম্পদ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা তীব্র একাকিত্বের যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন, যেখানে তাঁদের প্রধান চাওয়া হলো আপনজনদের ছোঁয়া।

অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন যে, অনেক বয়োবৃদ্ধ মানুষ রয়েছেন যাঁদের দেখভাল করার মতো পরিবারে কেউ নেই, ফলে তাঁদের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া, প্রবীণদের বয়সজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের সুচিকিৎসার জন্য দেশে পর্যাপ্ত বিশেষায়িত জেরিয়ারেটিক বা বার্ধক্যজনিত চিকিৎসা সেবার বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন।

কৃষিবিজ্ঞানী জহুরুল করিম নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন যে, একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে দেশের কৃষিখাতে আজীবন কাজ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পেছনে বয়োবৃদ্ধ নাগরিকদের বহুমুখী অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, এখনো আমাদের দেশে তাঁদের জন্য নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

বিজ্ঞানী জহুরুল করিম প্রবীণদের কল্যাণে বিশেষ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান এবং তাঁদের সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেন। তাছাড়া, প্রবীণদের নিয়ে পরিচালিত সোসাইটির বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড কেবল শহরকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রান্তিক গ্রামেও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম রেজাউল হক প্রবীণদের প্রদত্ত এই সম্মাননাকে এক অনন্য 'আলোকিত মানুষের সংবর্ধনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হলেও প্রবীণদের ভালো রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে অদক্ষতা ও ঘাটতি এখনও বিদ্যমান। তাই প্রবীণ নাগরিকদের সুন্দর ও মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফ