নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাঙালি সংস্কৃতির উর্বর সঞ্চয় হিসেবে পরিগণিত হয় আবুল হাসনাতের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থগুলো। তাঁর লেখনী থেকে জন্ম নিয়েছে 'সতীনাথ, মানিক, রবিশঙ্কর ও অন্যান্য' কিংবা 'জয়নুল, কামরুল, সফিউদ্দীন ও অন্যান্য'-এর মতো সমৃদ্ধ গ্রন্থসমূহ।
ছোটদের জন্যও তাঁর অবদান কম নয়। শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে তিনি উপহার দিয়েছেন 'ইস্টিমার সিটি দিয়ে যায়', 'টুকু ও সমুদ্রের গল্প', 'যুদ্ধদিনের ধূসর দুপুরে' ও 'রানু দুঃখ-ভালোবাসা'।
এ ছাড়াও জসীমউদ্দীন এবং সূর্য সেনের বর্ণাঢ্য কিশোর-জীবন নিয়ে আলাদা জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছিলেন এই প্রতিভাবান লেখক। তবে তাঁর জীবনেও একটি চিরন্তন সত্যের প্রতিফলন ঘটেছিল।
সংবাদপত্র ও সাময়িকী সম্পাদনার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর ভেতরের সাহিত্যিক প্রবৃত্তি নানামুখী বাধার মুখে পড়েছিল। এই পেশাগত ব্যস্ততা তাঁর সাহিত্যচর্চাকে অনেকাংশেই গ্রাস করে ফেলেছিল।
নিজের এই সীমাবদ্ধতা ও পেশাগত সংকটের কথা আবুল হাসনাত নিজেও গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন। তাঁর নিজের লেখা স্মৃতিকথা পড়লেই এই সত্যের যথেষ্ট প্রমাণ ও সাক্ষ্য পাওয়া যায়।
একজন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের নিখুঁত দিনলিপি না হলেও স্মৃতিকথাকে সমগ্র জীবনের এক স্মৃতিময় দিনলিপি হিসেবে অভিহিত করা চলে। যখনই আমরা কোনো ব্যক্তির স্মৃতিকথার বিষয় নিয়ে চিন্তা করি, তখন স্বভাবতই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কিছু বাণীর কথা মনে পড়ে যায়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার বলেছিলেন, স্মৃতির পটে জীবনের ছবি কে আঁকিয়া যায় আমরা জানি না। কিন্তু যিনিই এই ছবি আঁকেন, তিনি কেবল অবিকল নকল ধরে রাখার জন্য তুলি হাতে বসেন না।
তিনি আরও বুঝিয়েছিলেন যে, স্মৃতির চিত্রকর নিজের অভিরুচি ও পছন্দ অনুযায়ী নানা বিষয় বাদ দেন এবং বহু বিষয় সযত্নে নিজের মতো করে ধরে রাখেন।
আবুল হাসনাতের লেখা 'হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে' নামক স্মৃতিকথা গ্রন্থটি পড়ার সময় পাঠক মাত্রই রবীন্দ্রনাথের সেই পুরোনো বাণীগুলোকে নতুন করে উপলব্ধি করার সুযোগ পান।
জীবনের স্মৃতি যে কখনো আক্ষরিক অর্থে জীবনের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস হতে পারে না, সেই মৌলিক জ্ঞানটুকুও আমরা মূলত রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকেই আত্মস্থ করতে পেরেছি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর