ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ক্রিপ্টো চুরি মানেই গরম আলু, দাবি হ্যাকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
ক্রিপ্টো চুরি মানেই গরম আলু, দাবি হ্যাকারের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ডিজিটাল মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন কুখ্যাত এক হ্যাকার। তাঁর মতে, চুরি করা এই ডিজিটাল মুদ্রা নিজের দখলে রাখা অনেকটা হাতের তালুতে গরম আলু নেওয়ার মতোই বিপজ্জনক।

নিরাপত্তার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, কেবল মূল প্রবেশপথ সুরক্ষিত রাখলেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বরং যেকোনো সিস্টেমের প্রতিটি দরজা ও জানালা সমানভাবে সুরক্ষিত রাখা জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযان পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রথম ৪৮ ঘণ্টাকে অত্যন্ত নির্ণায়ক সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। হ্যাকারদের কবল থেকে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে এই স্বল্প সময়টুকুই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মূলত হ্যাকারদলগুলো আত্মসাৎ করা অর্থ ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে ফেলে। পরবর্তীতে সেই অংশগুলো বিভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা।

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে এই ধরনের জটিল কাজগুলো আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, যত বেশি সময় অতিবাহিত হতে থাকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সেই পাচার হওয়া অর্থের সঠিক গতিপথ চিহ্নিত করা ততই দুরূহ হয়ে পড়ে।

অবশ্য ব্লকচেইন প্রযুক্তির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে লেনদেনের যাবতীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই উন্মুক্ত ব্যবস্থার সুবাদে চুরি হওয়া বিটকয়েনের গতিবিধি সার্বিকভাবে অনুসরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন লিখটেনস্টাইন।

এই ধরনের অবৈধ লেনদেন ট্র্যাক করার জন্য বর্তমানে অত্যন্ত উন্নত মানের ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রযুক্তিও কার্যকর রয়েছে। এমনকি টেথারের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা রাখে। এর অর্থ দাঁড়ায় যে, এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণভাবে বিকেন্দ্রীভূত বা নিয়ন্ত্রণহীন নয়।

এসব জটিলতার কারণে সাইবার অপরাধী বা হ্যাকারদের প্রধান ও প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অর্থের যাত্রাপথ লুকিয়ে ফেলা। পাশাপাশি যেকোনো উপায়ে সেই অবৈধ অর্থকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করার নিরন্তর চেষ্টা চালায় তারা।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অপরাধীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। নিজের দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর অপরাধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে লিখটেনস্টাইন তুলে ধরেছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তিনি জানান যে, তাঁর জীবনের এক পর্যায়ে তিনি জনপ্রিয় ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বিটফিনেক্স থেকে এক লাখের বেশি বিটকয়েন সফলভাবে চুরি করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই বিপুল পরিমাণ চুরি করা বিটকয়েন সফলভাবে পাচার করার অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি একাধিক ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্মে অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন।

ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজের আসল পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। আবার অন্য বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে তিনি সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয় কিংবা অর্থ লেনদেনে সহায়তাকারীদের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন বলে জানান।

এরপর সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে অত্যন্ত সুকৌশলে ছোট ছোট অঙ্কে অর্থ জমা করার প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে সেই জমানো অর্থগুলোকে অন্য যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করার কাজ সম্পন্ন করেন এই হ্যাকার।

সাইবার অপরাধীদের ভাষায় ক্রিপ্টোকারেন্সির এই বিশেষ রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ‘চেইন হপিং’ বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট ব্লকচেইন থেকে অন্য আরেকটি ব্লকচেইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি স্থানান্তর করার মাধ্যমে মূলত লেনদেনের মূল সূত্র বা উৎস আড়াল করার চেষ্টা চালানো হয়।

তবে বর্তমান যুগে এই ধরনের অবৈধ অর্থ পাচারের জটিল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর এই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও ভীতিকর হয়ে উঠেছে বলেই নিজের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কানসাসে শিশুদের ফুটবল মাঠে ট্রাক তুলে দেওয়ায় নিহত দুই

কানসাসে শিশুদের ফুটবল মাঠে ট্রাক তুলে দেওয়ায় নিহত দুই