নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশ ভুটানের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষিখাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রাষ্ট্রটির মোট জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ অর্জিত হয় কৃষি থেকেই।
কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় গ্রামীণ জনপদ ছেড়ে তরুণ প্রজন্মের শহর কিংবা বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাসাং নিজের এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান যে তাঁর জন্মগ্রামের সমবয়সী তরুণ-তরুণীদের কেউ সেখানে আর নেই।
তরুণদের এই দেশত্যাগের ফলে কৃষিসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ভুটানের প্রশাসন আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে যুব সমাজের জন্য লোভনীয় কর্মসংস্থান তৈরি ও গ্রাম থেকে জনস্রোত রোধে বিশেষ রূপরেখা প্রণয়ন করেছে।
সরকারের কৃষি বিপণন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক তাশি দর্জি মনে করেন যে এই খাতে বৈদেশিক মূলধন বিনিয়োগ এবং নিরাপদ খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের অভিনব প্রচেষ্টা গ্রামীণ জনপদের আর্থিক ভিত্তিকে চাঙ্গা করতে পারে।
ইদানীং পারো শহরে আয়োজিত খাদ্যব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি বিশেষ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে মন্তব্য করেছেন যে কেবল চাষাবাদের গুরুত্বের কথা বললেই নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসবে না। তাদের সামনে এই পেশার উজ্জ্বল সম্ভাবনা, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সগৌরবে তুলে ধরতে হবে।
রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ভুটানের কৃষি অনুষদের শিক্ষক সোনাম তাশি সামাজিক মাধ্যমে নারীদের এমন ডিজিটাল প্রচারণাকে খুবই সম্ভাবনাময় ও গঠনমূলক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তাঁর অভিমত, ডিজিটাল মাধ্যমের এসব কনটেন্ট চাষাবাদ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে ও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে সোনাম জাম পপ জানাচ্ছেন যে পারিবারিক বাধ্যবাধকতার কারণেই মূলত তিনি প্রথম কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মাঝে একমাত্র কন্যা সন্তান হওয়ায় প্রবীণ মাতা-পিতার সেবাযত্ন এবং পারিবারিক খামার পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়েছিল। তবে দিন গড়ায় এবং কাজের সুবাদে কালক্রমে এই মাটির পেশার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ জন্মে।
তাঁর উপলব্ধি অনুযায়ী চাষাবাদ স্রেফ জীবনধারণের মাধ্যম নয়, বরং এখানে নবসৃজন, নিত্যনতুন উদ্ভাবন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার বহু পথ উন্মুক্ত রয়েছে। পাসাংয়ের প্রতিষ্ঠিত হোমস্টের অতিথিদের জন্য আশপাশের কৃষিজমিতে উৎপাদিত টাটকা খাবার পরিবেশন করে পর্যটকদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পরিচয় করানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর আপলোড করা ভিডিওর পরিচিতি দেখে বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থাও এখন নিজে থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে।
সোনামের অগাধ বিশ্বাস যে নতুন প্রজন্ম যদি ব্যবসায়িক বা উদ্যোক্তার মানসিকতা নিয়ে কৃষিকাজে নিজেদের নিয়োজিত করেন তবে এই পেশা আরও অধিক লাভজনক ও স্থায়ী রূপ ধারণ করবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে চাষাবাদ অনেকটা একজন শিক্ষকের মতো আচরণ করে যা মানুষকে ধৈর্য ধরতে, নানা সংকট মোকাবিলা করতে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে শিক্ষা দেয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর