নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘গ্যাপ’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ইতোমধ্যে এটি চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রদর্শনের অনুমতি লাভ করেছে। গত শনিবার রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। প্রদর্শনী শেষে সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ব্যক্তিগত জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা সালমান মুক্তাদিরের মতামত জানতে চান। প্রতিউত্তরে তিনি জানান, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে কোনো কিছু জানানোর বা বলার ন্যূনতম সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি নিজেই এই বিষয়ে একটি উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি বিভিন্ন প্রস্তাবও পেশ করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সাড়া মেলেনি। তাই তার ধারণা, তিনি যদি কোনো মন্তব্য করেন, সেটি শোনার বা গুরুত্ব দেওয়ার মতো কোনো উপযুক্ত পরিবেশ বা সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, যাদের এই বিষয়ে কথা বলা বা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তারাই যদি মুখ খোন, তবে সেটাই সবচেয়ে মঙ্গলজনক হয়। সাধারণ মানুষ হিসেবে তারা কেবল বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা কখনো সন্তোষজনক হতে পারে, আবার কখনো অত্যন্ত হতাশাজনকও হতে পারে। তবে তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করলেন কি না, তাতে বাস্তবের প্রেক্ষাপটে কোনো পরিবর্তন আসে না। বড়জোর কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষিত হতে পারে কিংবা সংবাদমাধ্যমে কিছু খবর প্রকাশিত হতে পারে মাত্র।
নতুন কোনো বার্তা দেওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তিনি নতুন কোনো বার্তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান না। পুরোনো নানা ঘটনা জমতে জমতে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে এক অত্যন্ত নেতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং সবাই গভীর হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই নতুন কোনো বিষয় সামনে এনে মানুষকে বাড়তি চাপের মুখে ফেলতে তিনি ইচ্ছুক নন।
নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে কেমন কাটছে, সেই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে তারা অত্যন্ত শোচনীয় ও কঠিন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। জীবনের একটি বড় সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নিজের কষ্ট হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতিও সাধিত হয়েছে—এটি একেবারে সত্য। তবে এ নিয়ে তিনি খুব বেশি দুঃখিত কি না, এমন প্রশ্নে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, একদমই না। কোনো বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে তিনি পছন্দ করেন না।
জীবনের এই দুঃসময় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালমান বলেন, তিনি সর্বদা বিশ্বাস করেন জীবনে যদি কোনো ভালো কিছু পাওয়ার আশা করা হয়, তবে তার বিপরীতে খারাপ সময়ের জন্যও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। সুতরাং, জীবনে যখনই কোনো কঠিন সময় উপস্থিত হবে, তাকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে অতিক্রম করতে হবে। এটি নিয়ে কেবল অনুযোগ করে বসে থাকলে তো কোনো সমস্যার সমাধান মিলবে না।
নিজের কাজে জীবনসঙ্গীর সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করে সালমান জানান যে, তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রচুর সাহায্য ও উৎসাহ পেয়ে থাকেন। তার মতে, পৃথিবীর প্রতিটি দম্পতির ক্ষেত্রেই—সে স্বামী হোক কিংবা স্ত্রী, একজন অন্যজনকে সহযোগিতা না করলে কেউ একা বড় হতে পারে না। তাই এই বিষয়টি উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। একটি সম্পর্ক কখনোই কেবল একক কোনো ব্যক্তির প্রচেষ্টায় সফল হয় না, সেখানে দুজনেরই সমান ও সক্রিয় ভূমিকা থাকা আবশ্যক।
তাকে ঘিরে সম্প্রতি তৈরি হওয়া বিভিন্ন ঘটনায় তার শ্বশুরের নাম জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। এর উত্তরে সালমান জানান, জন্ম কে দিয়েছেন, সেই বিষয়টি তো আসলে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু যখন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে, তখন তিনি নিজে গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসা করবেন যে কোথা থেকে এবং কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, সেই সুযোগটুকুও তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি আগেই উল্লেখ করেছেন যে তার সেই যোগাযোগের কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি তো নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি দোষী। কাজেই যারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করছেন, তারা সবাই মিলে যদি তাকে সামনে বসিয়ে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন, তবে নিজের দোষ স্বীকার করে সেই সমস্যার সমাধান করা তার জন্য মোটেও কঠিন হতো না। কিন্তু তা না করে প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে কথা বলে গেছেন এবং সবাই তা প্রচার করেছেন, অথচ কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেননি। কেবল একটি মনগড়া অভিযোগ করেই দায়িত্ব সেরেছেন।
এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি মানুষের সাধারণ জীবন ও কর্মজীবনে কতটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, সেই গুরুতর বিষয়টিও তুলে ধরেন সালমান। তিনি মনে করেন, নিজের ভেতর এই ধরনের মানসিক চাপ মোকাবিলা করার পর্যাপ্ত শক্তি আছে বলেই তিনি বর্তমান পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিতে পারছেন। কিন্তু সমাজের বহু মানুষ আছেন, যারা এই চাপ সহ্য করতে পারেন না। ফলে তাদের সুন্দর জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, দীর্ঘদিনের সুনাম ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার চিরতরে শেষ হয়ে যায়। তারা তো আর তার মতো এই বৈরী পরিস্থিতি সহজে কাটিয়ে উঠতে পারেন না। তাদের জীবন হয়তো আর কখনোই স্বাভাবিক গতিতে সামনে এগোতে পারে না। এই অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সমাজের সবার একটি নির্দিষ্ট জবাবদিহিতা থাকা বাঞ্ছনীয়। এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার ক্ষেত্রে সকলের মাঝে অত্যন্ত দায়িত্বশীল মনোভাবের পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন।
এই পুরো বিষয়গুলো যেভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, সেই পদ্ধতিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার কথা বলেন সালমান। তার মতে, কারও ক্ষতি করার অপচেষ্টার চেয়েও অনেক বড় কথা হলো আমরা গোটা পরিস্থিতিটাকে কীভাবে হ্যান্ডেল করছি। যদি আমরা বিষয়টিকে একান্তই ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে এসে মনে করি যে আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ হওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না, তবে সেটা আমাদের একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত হবে। কারণ ক্যামেরার সামনে এসে যখন আমরা সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করি এবং আমাদের পেছনে প্রচুর অনুসারী তৈরি হয়, তখন আমরা কেবল সেই খ্যাতির ইতিবাচক দিকগুলোই পেতে চাই। আমাদের নামের সঙ্গে খ্যাতি থাকবে, পর্যাপ্ত অর্থবিত্ত থাকবে এবং আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা থাকবে—সবই আমরা কামনা করি। কিন্তু এর সঙ্গে যখন কোনো নেতিবাচক বা প্রতিকূল পরিস্থিতি চলে আসে, তখন সেটিও আমাদের হাসিমুখে মেনে নিতে হবে। এমন তো হতে পারে না যে কেবল ভালো প্রাপ্তিগুলোই নিজের করে নেব, আর খারাপ দিকগুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাব।
সালমান আরও যোগ করেন যে, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মই হলো এই রকম—সব সময় কেবল অনুকূল বা ভালো ঘটনা ঘটবে না, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে খারাপ সময়ও নেমে আসবে। জীবনের অন্য যেকোনো সংকট বা বিপদের মতো সেই দুঃসময়গুলোকেও ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পার করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
স্টুডিও ভাঙচুরের সেই অনভিপ্রেত ঘটনার পর দেশত্যাগ করার গুঞ্জন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অবস্থান করে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে সালমান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার কোনো পরিকল্পনা তার কখনোই ছিল না, অতীতেও ছিল না। স্টুডিওতে হামলার ঘটনার পরই তিনি পরিষ্কার করে বলে দিয়েছিলেন যে তিনি আর বাংলাদেশে ওই স্টুডিওটি পরিচালনা করবেন না। এটি সম্পূর্ণ তার নিজের ব্যক্তিগত মতামত এবং এটি ছিল তার সুনির্দিষ্ট একটি অবস্থান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দেন যে, তিনি আর কখনোই বাংলাদেশে কোনো ধরনের নতুন বিনিয়োগ করবেন না।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর