ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মণিপুর সংকটে বিজেপির ব্যর্থতা দেখছে কংগ্রেস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
মণিপুর সংকটে বিজেপির ব্যর্থতা দেখছে কংগ্রেস ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্য মণিপুরে চলমান দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার সমস্ত দায়ভার ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ওপর চাপিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তাদের অভিমত, প্রশাসনের মারাত্মক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক চরম ঔদ্ধত্যের ফলেই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের চূড়ান্ত ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে ২০২৭ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মণিপুরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটানোর সুস্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব।

গত সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মণিপুর প্রদেশ কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সর্বভারতীয় নেতাদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আহ্বানে বসা এই সভায় রাজ্যের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তার দিকটি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং সেখানে দীর্ঘমেয়াদী সংঘর্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল, মণিপুর রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি প্রতিনিধি সপ্তগিরি উলকা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওাইবমি সিং এবং পরিষদীয় দলের নেতা কে মেঘচন্দ্রসহ দলের অন্যান্য উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।

বৈঠক সমাপ্তির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরের ক্ষমতাসীম বিজেপির রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য, চরম উদাসীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দরুন সীমান্তবর্তী মণিপুর দীর্ঘদিন ধরে এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন যে, পাহাড়ি এই রাজ্যে আইনের শাসন ও শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটার পরেও বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিজেদের দায়দায়িত্ব এড়িয়ে পরিস্থিতি অবনতির চরম সীমায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্বাভাবিক স্থায়িত্ব, সাধারণ মানুষের মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার করাই তাদের প্রধান ব্রত।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপালও সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি রাজধানীতে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'র উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভার কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে, রামলীলা ময়দানে সমবেত জনতার মাঝে যে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা মণিপুর ও উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পুঞ্জীভূত প্রতিষ্ঠানবিরোধী ক্ষোভের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

কে সি ভেনুগোপাল জোরালো দাবি করেন যে, বিগত লোকসভা নির্বাচনে মণিপুরের জনগণ তাদের দুটি আসনেই বিজেপিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের রাজনৈতিক রায় প্রদান করেছে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও বর্তমান শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভোটাররা মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছে।

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একদিকে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী হিন্দু তীর্থক্ষেত্রগুলোতে দুর্নীতির কালো ছায়া নেমে এসেছে, আর অন্যদিকে পরিবেশগত সুরক্ষার কথা পুরোপুরি উপেক্ষা করে পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদগুলো নির্বিচারে করপোরেট পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটির সার্বিক নিরাপত্তার পরিবেশ নতুন করে এক মারাত্মক অবনতির দিকে ধাবিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাংপোকপি জেলার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং ভারী কাঠের গুঁড়ি ও পাথর ফেলে একাধিক পথঘাট সম্পূর্ণরূপে অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

অপরদিকে সেনাপতি জেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই জন যুবকের ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরপরই সমগ্র অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে যে জাতিগত সংঘাতের সূচনা হয়েছে, তাতে ইতিমধ্যে ৫০ জনেরও অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

তাছাড়া তামেংলং, নোনে, কামজং, উখরুল এবং কাংপোকপি জেলার বিভিন্ন জনপদে অসংখ্য সাধারণ মানুষের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করা হয়েছে।

এরও আগে ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই এবং পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলের কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যাদের মধ্যে ৪৯ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বর্তমান এই নৈরাজ্যময় ও অশান্ত পরিস্থিতিতে বিরোধী দল কংগ্রেস মণিপুরের মাটিতে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে পারস্পরিক পুনর্মিলনের বাণী প্রচার করে আসন্ন নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত প্রবাসীর কফিন বগুড়ায় পৌঁছাল

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত প্রবাসীর কফিন বগুড়ায় পৌঁছাল