নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাবার উইল করা সম্পত্তির সঠিক হিসাব ও না পাওয়া অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে নামলেন প্রয়াত পপতারিককা মাইকেল জ্যাকসনের কন্যা প্যারিস জ্যাকসন। সম্প্রতি আদালতে দায়ের করা এই আইনি আবেদনে বলা হয়েছে যে, বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়সীমায় সংশ্লিষ্ট এস্টেটের হাতে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ নগদ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাবতীয় সম্ভাব্য দায়দেনা ও দেনা পাওনা মিটিয়ে ফেলার পরও সেই বিশাল ভান্ডার থেকে অনায়াসেই অন্তত ৬০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ট্রাস্টের তহবিলে হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ সম্ভব।
প্যারিস জ্যাকসন আদালতে নিজের অভিযোগে আরও জানিয়েছেন যে, সুদূর ২০১১ সালে এস্টেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাহকেরা ট্রাস্টে যথাযথ অর্থ পরিশোধ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই কথা আর রক্ষা করা হয়নি।
এর বিপরীতে উল্টো চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান যে, গত বছর থেকে যখন তিনি স্বয়ং এই এস্টেট পরিচালনার নানা বিষয় নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন, তখন তাঁকে প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এবং তাঁর ভাইবোনদের নিয়মিত প্রাপ্ত ভাতার পরিমাণও কয়েক মিলিয়ন ডলার কমিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পপসম্রাটের কন্যার তোলা এই সমস্ত গুরুতর দাবির তীব্র বিরোধিতা করে মাইকেল জ্যাকসন এস্টেটের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের যে আইনি বিরোধ চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়গুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্টে সম্পূর্ণ অর্থ একলপ্তে প্রদান করা একেবারেই সম্ভব নয়।
এস্টেটের পক্ষ থেকে আরও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে কিংবা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
তারা জানিয়েছে যে, ইতিমধ্যে পপস্টারের সন্তানদের সার্বিক কল্যাণ ও সুবিধার খাতিরে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করে প্রদান করা হয়েছে।
মাইকেল জ্যাকসনের মূল ইচ্ছাপত্র বা উইল অনুযায়ী স্পষ্টভাবে শর্ত দেওয়া ছিল যে, উত্তরাধিকারীদের বয়স ত্রিশ বছর অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত তাদের কেউ সম্পত্তির কোনো বড় অংশ বা শেয়ার হাতে পাবে না।
প্যারিস জ্যাকসনের করা এই বিশেষ আইনি আবেদনের ওপর আগামী ৪ ডিসেম্বর তারিখে আদালতে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর