নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশি সরকারপ্রধানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনা প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা। বৈঠকের শুরুতেই লিউ হাইশিং জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ভ্রমণকালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে যৌথ ঘোষণা এসেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন সবসময় থাকবে এবং দেশটির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি অটল রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রসার এবং সামগ্রিক উন্নয়নের সম্ভাবনার ওপরও চীনা প্রতিনিধি দল তাদের পূর্ণ আস্থার কথা ব্যক্ত করে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যুগের পর যুগ ধরে দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এই বন্ধুত্বের একটি বিশেষ এবং অনন্য স্থান রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সুসম্পর্কের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং তা আগামী প্রজন্মের কাছে সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া উভয়ের নৈতিক দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দুই দেশের এই ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী ও অংশীদারত্ব আরও বেশি গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পরপরই দেশজুড়ে খাল খননের ঐতিহাসিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই উদ্যোগটি জনগণের মাঝে ব্যাপক সমাদর লাভ করে এবং দেশের কৃষিখাতের সার্বিক উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নতুন করে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দেশের কৃষকসমাজসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও অত্যন্ত ইতিবাচক অবদান রাখাবে বলে তিনি মনে করেন।
উভয়পক্ষের এই বৈঠকে চীনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে দলীয় পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। লিউ হাইশিং জানান যে, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত করতে বেইজিং অত্যন্ত আগ্রহী। এই প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া, আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সংস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ার প্রতি বেইজিংয়ের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন লিউ হাইশিং।
উচ্চপর্যায়ের এই সাক্ষাতকালে স্বাগতিক দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
অন্যদিকে, চীনা প্রতিনিধি দলের প্রধান লিউ হাইশিংয়ের সাথে বৈঠকে আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
মূল বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পূর্বে চীনা প্রতিনিধি দলের প্রধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর বেইজিংয়ের এই প্রতিনিধিদল সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চীনা প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক বন্ধুত্বের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর