ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক অবরোধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক অবরোধ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনা বাতিলের জোরালো দাবি নিয়ে আবারও তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

দুপুর ঠিক সোয়া বারোটার দিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে মিরপুর সড়কের ওপর এসে অবস্থান নেন। এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের ফলে ওই নির্দিষ্ট জনবহুল সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রায় ত্রিশ মিনিট পর, অর্থাৎ পৌনে একটার দিকে রাস্তা থেকে সরে যান। এরপর তাঁরা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সরাসরি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে নিজেদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাজপথের এই অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সংবলিত নানামুখী প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান যে শিক্ষার্থীরা মূলত একটি স্বল্প সময়ের জন্য সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ তৈরি করেছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অবস্থানের কারণে মূল সড়কে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

উল্লেখ্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজস্ব ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত এই পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটিকে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক বিভিন্ন কাজের ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বর্তমান স্থান থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে নিয়ে এই নির্দিষ্ট মাঠে স্থাপন করার বিষয়ে গত ১৮ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মূলত শিক্ষার্থীরা এই তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, আলোচ্য মাঠটি মূলত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব মূল সম্পত্তি এবং আশির দশকের দিকে এটি কেবল বাণিজ্য মেলার আয়োজন করার জন্যই একটি সাময়িক সময়ের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আর মূল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সেখানে সচিবালয় তৈরি করা হলে দেশের কৃষিবিষয়ক গবেষণা কাজ এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

এই চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইতিপূর্বে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করেছেন এবং নিয়মিতভাবে বিক্ষোভ মিছিলও অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে ওই মাঠে যখন সচিবালয় নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল, তখন শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং দুটি সরকারি গাড়ি জোরপূর্বক ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ওই মাঠে নির্মাণাধীন কিছু স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফরিদপুরে প্রবীণদের নিয়ে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

ফরিদপুরে প্রবীণদের নিয়ে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন