ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইরানি কর্মকর্তার কাছে মার্কিন চিঠি, ট্রাম্পের হামলার প্রস্তুতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
ইরানি কর্মকর্তার কাছে মার্কিন চিঠি, ট্রাম্পের হামলার প্রস্তুতি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের প্রভাবশালী এক কর্মকর্তার কাছে একটি বিশেষ চিঠি প্রেরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে তেহরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটন প্রশাসনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত অবস্থান অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের জোরালো ধারণা হলো, ইরানের কট্টরপন্থী নেতাদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এমন কারও সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসা অত্যন্ত জরুরি। মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

গত শুক্রবার ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, দেশটির সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরান শহরে এসে পৌঁছায়। অন্যদিকে, গত শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গণমাধ্যমকে জানান যে, তাদের দেশের দক্ষ কূটনীতিকেরা কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আল-জাজিরার ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তেহরান বর্তমানে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিভিন্ন দেশের পাঠানো নানা প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখছে। একই সঙ্গে, মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে পাঠানো চিঠিটিকে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে মূল্যায়ন ও বর্ণনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা এমন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে শুরু হয়েছে, যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে নানা হিসাব-নিকাশ ও চিন্তাভাবনা করছেন। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই এই সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন বা হামলা পরিচালিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং এই পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অন্যান্য বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে নতুন করে বিমান বা সামরিক হামলা চালানোর জন্য ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে।

তা সত্ত্বেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান এই বৈরিতা দূর করে একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে উপনীত হতে হলে উভয় পক্ষকেই বেশ কিছু বড় ও জটিল বাধা সাফল্যের সঙ্গে পার হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশিষ্ট ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মেহরজাদ বারুজেরদি এই প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর তদারকি এবং ইরানের পারমাণবিক প্রতিশ্রুতির সুনির্দিষ্ট পরিধিসহ বেশ কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে দুই দেশের মূল অবস্থানের মধ্যে এখনও অনেক বড় ধরনের মতপার্থক্য ও ব্যবধান রয়ে গেছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেঙ্গুতে ব্যথানাশক সেবন কেন ডেকে আনে মারাত্মক রক্তপাতের ঝুঁক

ডেঙ্গুতে ব্যথানাশক সেবন কেন ডেকে আনে মারাত্মক রক্তপাতের ঝুঁক