ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লোহাগড়ায় ছেলের বঁটির কোপে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
লোহাগড়ায় ছেলের বঁটির কোপে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকাসক্তির বলি হয়েছেন এক বাবা। মাদকের জন্য অর্থ না পেয়ে বয়োবৃদ্ধ বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজের ছেলের বিরুদ্ধেই। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ষাটোর্ধ্ব আফসার শেখ লোহাগড়ার বয়রা গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত তরুণ খায়রুল শেখ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত খায়রুলের মা আনোয়ারা বেগম ও তাঁর স্ত্রী জুঁই খানমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত খায়রুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের নেশার অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিত বাবা আফসার শেখকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে তিনি ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নানা জিনিসপত্র চুরি পর্যন্ত করতেন।

খায়রুলের এমন উচ্ছৃঙ্খল ও ধ্বংসাত্মক আচরণের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁর স্ত্রীও রাগ করে বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। পারিবারিক এই কলহ ও সংকটের জেরে এলাকায় ইতিপূর্বে সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঘটনার দিন সকালে খায়রুল তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় নিহত আফসার শেখ বাড়ির কাছাকাছি একটি বাজারে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই অভিযুক্ত খায়রুল একটি ধারালো বঁটি হাতে নিয়ে তাঁর বাবার ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।

বঁটির তীব্র কোপে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বয়োবৃদ্ধ আফসারের। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই দৃশ্য দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে সেই সুযোগে খুনি খায়রুল দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

নিহত আফসার শেখের বড় পুত্রবধূ রিমা খানম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, শ্বশুর বাজার থেকে ফেরারি হওয়ার আগেই খায়রুল বাড়িতে এসে প্রবেশ করেন। তিনি রিমা খানমের কাছে গিয়ে জানতে চান, ‘ভাবি, দাও কই?’

উত্তরে রিমা তাঁকে জানান যে দাও তাঁর ভাই নিয়ে গেছেন এবং জানতে চান তিনি দাও দিয়ে কী করবেন। জবাবে খায়রুল ডাব কাটার কথা বলেন। এরপর তিনি তাঁর মায়ের অবস্থান জানতে চাইলে রিমা জানান যে মা বাড়িতে নেই এবং তিনি কোথায় গেছেন তা তাঁর জানা নেই।

রিমা খানম আরও উল্লেখ করেন, এরপর তিনি একটু সরে গেলে শ্বশুরের গলার কাশির শব্দ শুনতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে পেছনে ফিরে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান যে খায়রুল তাঁর শ্বশুরকে বঁটি দিয়ে উপর্যুপরি কোপাচ্ছেন।

রিমা খানম গণমাধ্যমকে জানান, গত এক বছর ধরে খায়রুল মাদকের টাকার জন্য নিয়মিত তাঁর শ্বশুরকে মারধর করে আসছিলেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খায়রুল নিজে আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ নিহত আফসার শেখের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, আফসার শেখকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পুরো শরীরে একাধিক কোপের স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য তা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পলাতক অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতারে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
বিজ্ঞান শিক্ষায় ঘর্ষণ ও মাধ্যাকর্ষণ বলের গুরুত্ব

বিজ্ঞান শিক্ষায় ঘর্ষণ ও মাধ্যাকর্ষণ বলের গুরুত্ব