ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের লজিস্টিকস ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলা অব্যাহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
ইউক্রেনের লজিস্টিকস ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলা অব্যাহত ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সামরিক রসদের ঘাটতির কারণে ২০১৪-১৫ সালের দনবাস অভিযানের সময় থেকেই ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী বেসামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতো জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিস 'নোভায়া পোচতা'। আধুনিক ও সাশ্রয়ী এই পদ্ধতিটি ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশেই দারুণ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিল।

যদিও এই কৌশলের নেতিবাচক দিকও ছিল, যার ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কো নোভায়া পোচতার গুদামগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে সেগুলো সুপরিকল্পিতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করে। এই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি 'এপিসেন্টার' ও 'রোজেৎকার' মতো বৃহৎ মার্কেটপ্লেস এবং খুচরা চেইন শপগুলোও রুশ হামলার শিকার হয়, যার ধারাবাহিকতায় দেশটির অন্যান্য লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের মুখে পড়ে।

রাশিয়ার এই সামরিক কৌশলের মূল যুক্তি হলো, ইউক্রেন রাষ্ট্র যদি সামরিক প্রয়োজনে বেসামরিক অবকাঠামোগুলো ব্যবহার করে থাকে, তবে এই সমস্ত লজিস্টিক সুবিধাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যের আওতাভুক্ত হবে। যেকোনো সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে প্রধান ভিত্তি হলো বিদ্যুৎ শক্তি, যা না থাকলে উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে দাঁড়ায়, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে এবং সৈন্যদলে রসদ পাঠানো অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই কৌশলগত বিবেচনা থেকেই রাশিয়া ২০২২ সাল থেকে সুশৃঙ্খলভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করে আসছে। এর ফলস্বরূপ, সংঘাতের পূর্বে ইউক্রেনের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৫০ থেকে ৫৫ গিগাওয়াটের ঘরে থাকলেও, ২০২৫-২৬ শীতের মৌসুমে তা নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ১২ থেকে ১৫ গিগাওয়াটে এসে ঠেকেছে।

উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি দেশটিতে বিদ্যুতের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে, যার কারণে ভারী শিল্পকারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং নিয়মিত রোলিং ব্ল্যাকআউটসহ গ্রাহকরা জেনারেটরের মতো বিকল্প বা স্বনির্ভর বিদ্যুৎ উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলে একসময়ের ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ রফতানিকারক দেশ ইউক্রেন এখন আমদানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের তিনটি প্রধান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কৌশলগত কারণে রুশ আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকলেও, চলতি শরৎকাল থেকে মস্কো বাহিনী বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বণ্টন সাবস্টেশন এবং ট্রান্সমিশন লাইনগুলোতে উপর্যুপরি হামলা চালানো হচ্ছে, যার প্রমাণ মেলে রাজধানী কিয়েভের দ্রিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত পাওয়ার লাইন ক্রসিং ধ্বংস করার মাধ্যমে।

দিনপ্রো নদীর ওপর নির্মিত এই ক্রসিংগুলোর একটি ধ্বংস হওয়ার ফলে কেবল কিয়েভ মহানগরীই নয়, বরং পুরো পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও তাপশক্তি উৎপাদনে সক্ষম কম্বাইন্ড হিট অ্যান্ড পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতেও নিয়মিত আঘাত হানা হচ্ছে।

এই হামলার মূল উদ্দেশ্য কিয়েভের সাধারণ নাগরিকদের কনকনে ঠান্ডার মধ্যে ফেলে দেওয়া নয়, বরং ইউক্রেনের গোটা সমন্বিত জ্বালানি কাঠামোকে ধ্বংস করে সেটিকে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন অংশে বিভক্ত করে ফেলা, যাতে পরবর্তীতে সেগুলোকে একে একে সহজেই পরাজিত করা সম্ভব হয়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্সে ছাত্র-শ্রমিক বিক্ষোভ, মাখোঁর পদত্যাগ দাবি

ফ্রান্সে ছাত্র-শ্রমিক বিক্ষোভ, মাখোঁর পদত্যাগ দাবি