ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অনুমোদিত মূলধন ১০ হাজার কোটি টাকা করছে ইসলামী ব্যাংক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
অনুমোদিত মূলধন ১০ হাজার কোটি টাকা করছে ইসলামী ব্যাংক ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এর অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি গত বৃহস্পতিবার স্টক এক্সচেঞ্জের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে বার্তা পাঠিয়ে তাদের সম্মানিত অংশীদারদের এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

ব্যাংকটির সংঘস্মারকে যথাযথ সংশোধন আনার মাধ্যমেই এই মূলধন বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে ডিএসইকে জানিয়েছে কতৃপক্ষ। তবে এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র এবং বিশেষ সাধারণ সভায় সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত সিলমোহর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিগত সময়ে এস আলম গ্রুপের নানামুখী অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই মূলত অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে বিদেশি কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে ব্যাংকের অংশীদার করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রস্তাবে খুব দ্রুত অনুমোদন দেবে।

চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে ব্যাংকটি। এই সময়ে তাদের কর-পরবর্তী নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। অথচ এর ঠিক আগের বছর অর্থাৎ পূর্ববর্তী বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছিল।

শুধু তাই নয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যেও ব্যাংকটির বড় অংকের লোকসান অব্যাহত রয়েছে। এই তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির মোট লোকসান হয়েছে এক হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।

এসব ধারাবাহিক লোকসানের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের সামগ্রিক সম্পত্তির ওপর, যার ফলে সম্পদের মূল্যায়ন হ্রাস পেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। অথচ এর আগের বছরের একই হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য ছিল ছয় হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হ্রাসের মধ্য দিয়ে।

দীর্ঘমেডিয়াদী আর্থিক ও মূলধন সংকটের বেড়াজালে আটকা পড়ে ইসলামী ব্যাংক ২০২৩ সালের পর থেকে তাদের বিনিয়োগকারী বা শেয়ারধারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ প্রদান করতে পারেনি। লভ্যাংশ বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় শেয়ারবাজারে বর্তমানে ব্যাংকটির অবস্থান অবনমিত হয়ে দুর্বল ক্যাটাগরির বা জেড শ্রেণির কোম্পানির তালিকায় ঠাঁই নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিতর্কিত পন্থায় চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয়। পরবর্তী সময়ে এই গ্রুপের ছত্রছায়ায় ব্যাংকটির ভেতর থেকে ভুয়া নাম ও বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বিভিন্ন উপায়ে আত্মসাৎ করা হয়, যার পুরোটাই এখন শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ চিরতরে হারিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ব্যাংকটির পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রথমে দক্ষ স্বতন্ত্র পরিচালকদের হাতে ন্যস্ত করা হয় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে চলে গেছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দৌলতপুরে অতিরিক্ত ক্লাসে শিশু নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষ

দৌলতপুরে অতিরিক্ত ক্লাসে শিশু নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষ