নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিগত চব্বিশ মাসের বিভিন্ন ধাপে প্রায় সাড়ে সাত হাজার চিকিৎসক পদোন্নতির সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। কিন্তু এই পদোন্নতিগুলোর একটি বিরাট অংশ স্বাভাবিক শূন্য পদের বিপরীতে সাধিত হয়নি, বরং অতিরিক্ত অর্থাৎ সুপারনিউমারারি পদ প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক শূন্য পদগুলো অপূর্ণই রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট নিদর্শন মেলে গত বছরের অক্টোবর মাসে, যখন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিজ্ঞান বিভাগে ৫৯৯ জন চিকিৎসককে সুপারনিউমারারি সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে একই বছরের চব্বিশে ডিসেম্বর তারিখে ১২১ জন সহযোগী অধ্যাপককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই তালিকায় ১১০ জন সুপারনিউমারারি এবং মাত্র চারজন স্বাভাবিক শূন্য পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের প্রকৃত ঘাটতি নির্ধারিত অনুমোদিত পদের তুলনামূলকভাবে তিন গুণেরও বেশি।
এই সংকটের একটি প্রকট নমুনা হিসেবে উঠে আসে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের নাম। ঊননব্বই সালে অর্ধশত আসনে শিক্ষার্থী গ্রহণের অনুমতি মেলার পর থেকে এখন প্রতি শিক্ষাবর্ষে দুইশত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে।
অথচ এমন বর্ধিত শিক্ষার্থীর বিপরীতে একশো আটাত্তরটি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মোটে তিরাশি জন শিক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, শিক্ষক ঘাটতির পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হলো শিক্ষকদের সুষম বণ্টনের অভাব।
উন্নীত হওয়া বহু শিক্ষক এখনো নিজেদের নতুন পদে কাজের সুযোগ পাননি। তাঁদের একাংশ আগের পদেই রয়ে গেছেন, কেউ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছেন, আবার কেউ প্রতিষ্ঠানের বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁদের যদি সঠিক চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে এই ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের অধীনে পরিচালিত হলেও শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং প্রাথমিক পদায়নের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাতে।
এই দ্বিধাবিভক্ত ব্যবস্থার কারণে মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করার ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর