ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেরপুরে জমির অভাবে ঘরেই বৃদ্ধ কৃষকের দাফন, চাঞ্চল্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
শেরপুরে জমির অভাবে ঘরেই বৃদ্ধ কৃষকের দাফন, চাঞ্চল্য ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জমির সংকট ও সামাজিক গোরস্থানের অনুপস্থিতির কারণে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক ষাটোর্ধ্ব কৃষককে নিজ বসতঘরের বারান্দার ভেতর দাফন করার মতো একটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার উপজেলার শালমারা গ্রামে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় জনপদে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি গণকবরস্থানে তাঁর মরদেহ পুনরায় সমাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মৃত আবদুল করিম শালমারা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং জীবিকা নির্বাহ করতেন কৃষিকাজের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ওই পরিবারের বসতভিটার চার দেয়ালের সীমানা ছাড়া অন্য কোনো আবাদি বা অনাবাদি জমি ছিল না। বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতার তাড়নায় গত সোমবার এই কৃষকের জীবনাবসান ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন, নিহতের পরিবার এবং জনপরিসরের তথ্যানুযায়ী, শালমারা গ্রামে পারিবারিক গোরস্থান থাকলেও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য কোনো উন্মুক্ত সামাজিক কবরস্থান গড়ে ওঠেনি। এর ফলে যাঁদের নিজস্ব পারিবারিক কবরস্থান নেই, তাঁদের প্রিয়জনদের মরদেহ দাফন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিরুপায় হয়ে অনেকেই তখন বাড়ির আঙিনা কিংবা বসতভিটার সামনে বা আশপাশের জমিতে মরদেহ কবরস্থ করে থাকেন।

স্বজনদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে আবদুল করিমের মেয়ে রিক্তা পারভীন জানান, তাঁদের বাড়িভিটা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জমিজমা ছিল না এবং তাঁদের এই পাড়ায় কোনো কবরস্থানও বিদ্যমান নেই। এমতাবস্থায় অন্য কোনো পথ খোলা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরই বাবাকে মাটি দিতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই এলাকার দুস্থ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুবিধার স্বার্থে অন্তত একটি কবরস্থান থাকা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মিয়া উল্লেখ করেন, এই জনপদে একটি গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গণপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ এই মহৎ উদ্যোগে এগিয়ে আসেননি। ঠিক এই কারণেই আবদুল করিমের মরদেহ তাঁর নিজ ঘরে দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক।

এই পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে আবদুল করিমের মরদেহ দাফন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাতিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ।

একই রকম আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আজ সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশের ওয়ার্ডের নির্ধারিত সামাজিক গোরস্থানে ওই বৃদ্ধকে দাফন করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পুরো ঘটনাটিকে গভীর দুঃখের বিষয় হিসেবে অভিহিত করে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানান, এই সংবাদটি পাওয়ামাত্রই তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে মরদেহটি দাফনের সুব্যবস্থা করা হবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাগমারা ইউপি সদস্য ১২টি সিমসহ অবরুদ্ধ, ভাতার টাকা আত্মসাতের

বাগমারা ইউপি সদস্য ১২টি সিমসহ অবরুদ্ধ, ভাতার টাকা আত্মসাতের