ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গাংনীতে মরিচের কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা, চাষিদের মাথায় হাত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
গাংনীতে মরিচের কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা, চাষিদের মাথায় হাত ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মেহেরপুরের গাংনীতে কাঁচা মরিচের বাজারে চরম দরপতন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও কৃষকেরা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। হঠাৎ এমন ধসের কারণে স্থানীয় চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে।

চাষি আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি বাজারে ২৬ কেজি মরিচ বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় দুই কেজি মরিচ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাজারে আনার খরচ এবং প্রতি কেজিতে এক টাকা করে খাজনা দিতে হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শ্রমিক দিয়ে মরিচ তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক দিয়ে মরিচ তোলানোর জন্য কেজিপ্রতি ১৫ টাকা করে খরচ দিতে হয়। ফলে বর্তমান বাজারদরে শুধু শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়েই উৎপাদকদের বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মরিচ তোলার এই বাড়তি খরচের কারণে চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। আলমগীর হোসেন আরও জানান, এখনো কৃষকদের খেতের গাছে প্রচুর পরিমাণে মরিচ ঝুলছে। কিন্তু খরচ পুষিয়ে ওঠার উপায় না থাকায় সেগুলো সংগ্রহ করার আগ্রহ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলছেন তাঁরা। মরিচ তোলার মজুরি পরিশোধ করতেই বিক্রির সব অর্থ শেষ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে গাছগুলো আর না রেখে কেটে ফেলে সেখানে গম চাষ করার কথা ভাবছেন তিনি।

আরেক মরিচচাষি আলফাজ উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকার কৃষকেরা নিয়মিত প্রতিবছরই মরিচের চাষ করে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে ভালো মুনাফা পাওয়া যাওয়ায় এই অঞ্চলে মরিচ আবাদের প্রতি মানুষের ঝোঁক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ডিজেল ও সারের দাম বেশ খানিকটা বেড়ে গেছে। চাষের শুরুতে পণ্যের ভালো দাম পাওয়ায় এবারও ভালো লাভের আশা বুক বেঁধেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাজারদর মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় সার, সেচ ও তোলার খরচ বাদ দিয়ে কৃষকদের হাতে আর কোনো অর্থই অবশিষ্ট থাকছে না।

এ অঞ্চলের মাটি যে মরিচ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, তা তুলে ধরে চাষি জাহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় কৃষকেরা আবাদি এবং পতিত—উভয় ধরনের জমিতেই নিয়মিত মরিচের চাষ করেন। অধিক লাভের আশায় কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে এই পেশায় যুক্ত হন। তবে মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাঁদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। বর্তমানে পণ্যের দাম এতটাই তলানিতে ঠেকেছে যে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে তা বিক্রির পর চাষিদের পকেটে কিছুই থাকছে না।

জাহিদুল ইসলাম আরও যোগ করেন যে, গাংনী উৎপাদিত কাঁচা মরিচ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে ছোট পরিসরে নিয়মিত মরিচের হাটও বসে থাকে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত কাঁচা মরিচের বাজারদর বাড়ার কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না তিনি।

আরেক চাষি আরিফুল ইসলামও একই হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। কিছুদিন আগেও যেখানে তাঁরা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, সেখানে বর্তমান বাজারে সেই একই মরিচ মাত্র ১২ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষকদের মনে মরিচ সংগ্রহের আগ্রহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক চাষি ইতিমধ্যে নিজেদের খেতের গাছ কেটে ফেলাও শুরু করে দিয়েছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
যুক্তরাষ্ট্রের এসআইইউসি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের এসআইইউসি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষা